ঠাকুরগাঁওয়ে দুই মাদ্রাসাছাত্র নিখোঁজ

, মোঃ মজিবর রহমান, শেখ  : ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে দুই মাদ্রসাছাত্র নিখোঁজ হয়েছে। আট মাস ধরে সাকিব হাসান নামে এক মাদ্রাসাছাত্র নিখোঁজ রয়েছে। এ দিকে, ইয়াসিন আলী নামে আরেক মাদ্রাসাছাত্র নিখোঁজ হওয়ার ১৮ দিন সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় পৃথকভাবে দুই পরিবারের লোকজন পীরগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

পুলিশ বলছে, দুই মাদ্রাসাছাত্র নিখোঁজ হয়েছে অধ্যয়নরত প্রতিষ্ঠান থেকে। প্রতিষ্ঠানের প্রধানগুলো নিখোঁজ ছাত্রদের খুঁজে পেতে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে না। তারা বলছে প্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ির উদ্দেশে গিয়েছিল ওই দুই ছাত্র। বাড়িতে থাকাকালীনই তারা নিখোঁজ হয়েছে বলে পুলিশের কাছে এমন দাবি করেছেন পীরগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা মাদ্রাসা ও জগথা হুজুরপাড়া জামিয়া আরাবিয়া সমশেরিয়া মাদ্রাসার দুই প্রধান।

৮ মাস ধরে নিখোঁজ হওয়া সাকিবের বাড়ি জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার ধমগর্ড় এলাকার ঝুলঝাড়ী গ্রামে।

তার ভাই মিঠুন আলী জানান, অনেক কষ্টে ভাইকে লেখাপড়া করাচ্ছিলাম। মাদ্রাসা থেকে নিখোঁজ হয়েছে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি। পীরগঞ্জ থানায় ৪ মার্চ একটি সাধারণ ডায়েরিও করেছি। গত ৮ মাস পেরিয়ে গেলেও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কিংবা থানা পুলিশ কোনো সন্ধান দিতে পারেনি। সাকিব নিখোঁজ হবার পর পুরো পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

অন্যদিকে গত ১৮ দিন ধরে নিখোঁজ হওয়া মাদ্রাসাছাত্র ইয়াসিন আলীর বাড়িও রাণীশংকৈল উপজেলায়। সে ওই উপজেলার ভরনিয়া চেংবাড়ী গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে।

ইয়াসিন আলী বাবা জাহিরুল ইসলাম জানান, ছেলে রানীশংকৈল উপজেলার ভরনিয়াহাট গোরস্তান এতিমখানা ও লিল্লাহ বোডিংয়ে থেকে নাজার বিভাগে পড়াশুনা করছিল। ওই এতিমখানার প্রধান মোজাফ্ফর হোসেন গেল ২৪ আগস্ট শিক্ষার্থী ইয়াসিন, সামিম, রায়হা এবং আব্দুর রহমানকে পীরগঞ্জের জামিয়া আরাবিয়া সমশেরিয়া মাদ্রাসায় এনে কুরআন শিক্ষায় আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি করে দেন। সেখানে আবাসিকে থেকে তারা শিক্ষা গ্রহণ করছিল।

তিনি আরও বলেন, মাদ্রাসায় ভর্তি হবার দুই দিন পর ২৬ আগস্ট থেকে নিখোঁজ হয় ইয়াসিন। এর পর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। খবর পেয়ে তার বাড়ির লোকজনও বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন। তাকে না পেয়ে অবশেষে গেল ৮ সেপ্টেম্বর তার পিতা পীরগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে তার মা মুক্তারা বেগম ভেঙে পড়েছেন।

পীরগঞ্জ থানার ওসি বজলুর রশিদ দৈনিক অধিকারকে মুঠোফোনে জানান, দুইজন মাদ্রাসাছাত্র নিখোঁজের ঘটনায় দুটি পৃথক সাধারণ ডায়েরি করেছে তাদের পরিবার। পুলিশের পক্ষ থেকে মাদ্রাসার দুই ছাত্রকে খোঁজা হচ্ছে। তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষগুলো পুলিশকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহায়তা করলে দ্রুত খুঁজে পাওয়া সম্ভব বলে আশা করেন তিনি।

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন