মালয়েশিয়ার ভিসা প্রসেসিংয়ের নামে শতকোটি টাকা লোপাট

, ডেস্ক : মালয়েশিয়ার ভিসা প্রসেসিংয়ের নামে একটি নানা কায়দায় প্রায় শত লোপাট করেছে। অতিরিক্ত ফি আদায়, ট্যুরিস্ট ভিসার অন্তরালে মানব পাচারের মাধ্যমে এই অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। এমনকি ভিসা ফি’র মূল অর্থও পরিশোধ করা হয়নি। অর্থাৎ এই অর্থ আত্মসাত করা হয়েছে। গোপনে এসব অর্থ অন্য দেশে পাচার করা হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর

জানা গেছে, খোদ মালয়েশিয়ায়ও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। কারণ যে দু’টি ভিসা প্রসেসিংয়ের এ কাজ করছিল তারমধ্যে মালয়েশিয়ান অংশীদারও রয়েছে। কিন্তু মালয়েশিয়ান অংশীদারদেরকে আয়ের অংশ পরিশোধ না করে এ অন্য দেশে পাচার করা হয়েছে। তাছাড়া, অতিরিক্ত ফি আদায়, মানব পাচার প্রভৃতি অনৈতিক বিষয়গুলো অনেকটাই মালয়েশিয়ান অংশীদারের অগোচরে হয়েছে। মালয়েশিয়ার অংশীদাররা বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথাও বলেছেন। তারপরও কোনো সুরাহা হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভিএলএন লি: এবং ওএসসি ে মালয়েশিয়ার ভিসা প্রসেসিংয়ের কাজ করে থাকে। ভিএলএন ভিসা প্রসেসিংয়ের কাজ করছে ২০১৪ সাল থেকে। ওএসসি কাজ করছে ২০১৪ সাল থেকে। দুটিকে ১০০ ও ১০৫ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত করে প্রতি ের জন্য ফি নির্ধারণ করে দেয়া হয়। মালয়েশিয়ান ের সংশ্লিষ্ট দফতরের চিঠিতে বিষয়টি স্পষ্ট রয়েছে। কিন্তু দু’টি মালয়েশিয় সরকারের সেই মানছে না। তারা প্রতি পাসপোর্টের জন্য বাংলাদেশি টাকায় ২৫শ’ টাকা করে গ্রহণ করে। যা সম্পূর্ণ বেআইনী। এই বাড়তি অর্থ কেন নিচ্ছে এর কোন উত্তর নেই। বাড়তি যে অর্থ বিদেশ গমনেচ্ছুদের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে তার হিসাব-নিকাশ দিচ্ছে না দু’টির বাংলাদেশি অংশীদাররা। এমনকি ভিসা প্রসেসিংয়ের মালয়েশিয়ার নির্ধারিত ফি-এর অর্থও এরা পরিশোধ করছে না। সব মিলিয়ে প্রায় একশ’ কোটি টাকা আত্মসাত এবং এই টাকা অন্য দেশে পাচারের অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে এই কোম্পানি দুটির মানব পাচারেরও অভিযোগ রয়েছে। এরা ট্যুরিস্ট ভিসায় মালয়েশিয়ায় লোক পাঠিয়ে সেখানে পালিয়ে যাওয়ার করে দেয়। এরকমের প্রতিটি ঘটনায় কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়। এদের এসব অবৈধ কর্মকা-ের কারণে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের ভাবমুর্তি ক্ষুণ হচ্ছে।

বিনিয়োগ বোর্ডে প্রদত্ত তথ্যে দেখা যায়, এই কোম্পানিতে রয়েছেন বাংলাদেশি হোসেন মো: কাওসার, এএসএম আফতাব হোসেন মামুন প্রমূখ। ঢাকায় বারিধারাস্থ রওশন মহলে কোম্পানির অফিস। মালয়েশিয়ান সরকারের ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্স প্রাপ্ত কোম্পানিটি যৌথ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। মালয়েশিয়ান নাগরিকও এর মালিকানায় রয়েছে। মালয়েশিয়ায় মূল কোম্পানিতে অভিযোগ রয়েছে যে, থেকে গত দুই বছর তারা কোন টাকা পায়নি। বাংলাদেশ েও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে টাকা পাঠানোর জন্য বাংলাদেশ ের অনুমোদন চাওয়া হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, ভিসা প্রসেসিংয়ের নামে হরিলুটের কারবার ঘটেছে। মাসে যদি বিশ পাসপোর্ট তারা পায়, তাহলে নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত আদায়সমেত হিসাব করলে প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। মাসে এই পরিমাণ টাকা তারা ভিসা প্রার্থীদের পকেট কাটলে বিগত বছরগুলোতে কত টাকা নিয়ে গেছে তা সহজেই অনুমেয়। মালয়েশিয়ায় ট্যুরিস্টদের দিক থেকে বাংলাদেশিরা অন্যতম শীর্ষস্থানে রয়েছে। এই হার ক্রমেই বাড়ছে।

বাংলাদেশে বাড়তি টাকা আদায়ের বিষয়ে মালয়েশিয়ানরা জানেনা বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। বিষয়টি বাংলাদেশি কোন সংস্থারও নজরে আসেনি। সূত্রমতে, কাওসার, মামুন ও মামুনের ভাই মাহতাব (বর্তমানে কুয়ালালামপুরে স্থায়ী বাস) এই বাড়তি টাকা আদায় সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত। বিষয়টির গভীরে খতিয়ে দেখলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।