Home / অন্যান্য / উপ-সম্পাদকীয় / রাজনীতির নিষ্ঠুরতা ও কুখ্যাত প্রেমিক সম্রাট শাহজাহান

রাজনীতির নিষ্ঠুরতা ও কুখ্যাত প্রেমিক সম্রাট শাহজাহান

ক্রাইম প্রতিদিন, মোঃ ইসমত দ্দোহা : “ক্ষমতায় থাকলে অনেক কিছুই বোঝা যায়না, আমি যাদের উপর বিশ্বাস রেখেছিলাম তারাই আমাকে ডুবিয়েছ, (সংগ্রহ) সাবেক রাষ্ট্রপতি হোসেন মোহাম্মদ এরশাদ। সত্যিই রাজনীতির ইতিহাস বড়ই নির্মম। ক্ষমতায় আসার জন্য প্রতিটা রাজনৈতিক দলই যার যার মতো করে কৌশল খাটায়, কেউ জিতে যায় কেউ হেরে যায়। কিন্তু হেরে যাওয়াটা অনেকেই মানতে পারেনা, হেরে গিয়েও যে জনগণের পাশে থাকা যায় সেটা অনেক রাজনৈতিক সংগঠন করেনা, বুঝতেও চায়না।

২০০৪ সালের বিএনপির জোট সরকারের প্রভাবশালী প্রতিমন্ত্রী লুৎফুর জামান বাবরের সম্প্রতি একটা ছবি দেখে বড়ই করুণা হলো, চারিদিকে পুলিশ বে্ষ্টিত হয়ে হুইল চেয়ারে বাবর, সার্টের বোতাম গুলো আগে পরে লাগানো কি নির্মম বাস্তবতা, কখনো কি বাবর ভেবেছিলো এমন পরিণতি হবে কখনো, ক্ষমতায় থাকলে বাহিরের অনেক কিছুই বোঝা যায়না, কিংবা বুঝলেও হেসে উড়িয়ে দেন প্রবলভাবে। আমার আগের কয়েকটি বিশেষ কলামে লিখেছিলাম, ভারতীয় উপমহাদেশ তথা বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে হোসেন মোহাম্মদ এরশাদই একমাত্র ব্যক্তি যিনি ক্ষমতা ছাড়ার পরও স্বৈরশাসকের তকমা গায়ে মেখেও বাংলাদেশে রাজনীতি করে যাচ্ছেন, বর্তমানে সংসদে প্রধান বিরোধী দলীয় নেতার ভূমিকায় আছেন। এই এরশাদকে প্রতিহত করতে ৯০ দশকে বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা একএে আন্দোলন করেন, সেই রঙ্গমন্চে আজ বেগম জিয়া নির্জন কারাগারে বন্দী। রাজনীতি বড়ই নিষ্ঠুর এখানে কোন আপন পর নেই আছে শুধু আলো আধাঁরির এক অদ্ভুত খেলা, এখানে কেউ জিতে যায়, হেরে গিয়ে কেউ কেউ চলে যায় দৃষ্টি সীমার বাহিরে।

রাজনীতিবিদদের কাজ হচ্ছে জনগণের জন্য, দেশের জন্য রাজপথে থাকবেন, কথা বলবেন। কিন্তু কি এক অদ্ভুত পরিস্থিতি রাজনীতিবিদদরা এখন কোন কথা বলেনা, রাজনীতিও করেনা, আর এই সুযোগে একদল সুযোগ সন্ধানী অপরাধী কালোবাজারিদের হাতে চলে গেছে স্বদেশের রাজনীতি। রাজনীতিবিদদরা কেন জানি একধরনের ভয় আর লজ্জায় গুটিয়ে থাকেন। দেশের মানুষ আগুনে পুড়ে মরে, রাস্তায় গাড়ি চাপায় মরে, নদীতে ডুবে মরে, ধর্ষণের স্বীকার হয়ে মরে এতোসব মৃত্যেুর মিছিল দেখেও কারও যেন ঘুম ভাঙেনা, সব দায় নীরিহ জনগণের। প্রেম সম্রাট শাহজাহান অমর হয়ে আছেন তাজমহলের জন্য, কিন্তু মমতাজকে বিয়ে করার আগেও আরও তিন স্ত্রী ছিলো শাহজাহানের। এরপরও তিনি আর্জুমান্দ ওরপে মমতাজমহল কে বিয়ে করেন। কতিথ আছে সম্রাট শাহজাহান মমতাজের স্বামীকে হত্যা করে মমতাজকে বিয়ে করেন। এই শাহজাহানই আবার আপন মেয়ের প্রেমকে মেনে নেইনি। মেয়ের সাথে দেখা করতে এলে মেয়ে জাহানারার প্রেমিককে আটক করেন শাহজাহান, তাকে তক্তার সাথে পেরেক মেরে নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা করেন সম্রাট শাহজাহান।

মেয়ের অশ্রু মন গলাতে পারেনি পিতা শাহজাহানের। সে সময় তিনি তাজমহল বানাতে ব্যস্ত আর সেই সময়েই কন্যার প্রেমিককে হত্যা করেন সম্রাট। দুনিয়া এক অদ্ভুত জায়গা, মমতাজের মৃত্যুর পর তার আপন বোনকে বিয়ে করেন সম্রাট শাহজাহান। অথচ নিয়তির নির্মমতায় ছেলে আওরঙ্গজেবের হাতে বন্দী হন শাহজাহান।

কারাগারে কঠোর নজর বন্দিতে রাখা হতো, একমাত্র মেয়ে জাহানারা ব্যতীত অন্য কেউ দেখা করতে পারতোনা, বন্দী অবস্থায় মৃত্যু হয় এই কুখ্যাত প্রেমিক ডাকাত সম্রাট শাহজাহানের। নাতি মোহাম্মদকে সম্রাট শাহজাহান দুঃখ করে বলেছিলো খমতার নিষ্ঠুরতায় পুএের হাতে বন্দী হতে হয় পিতাকে। নাতিকে করতে হয় দাদার বন্দী দশার খবরদারি। এর নাম রাজনীতি। তবে আমরা আনন্দিত আমাদের অভিভাবক চন্দ্রগন্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মো:আলী হোসেন রাজনৈতিক নিষ্ঠুরতার বলি হয় দীর্ঘ ২২ দিন অন্যায়ভাবে কারাভোগের পর ফিরে এসেছে আমাদের মাঝে, উৎসব মুখর করেছে আমাদের ঈদ আনন্দকে।

সবাই ঈদের শুভেচ্ছা, নিরাপদ হোক সবার ঈদ যাএা।

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন
x

Check Also

নির্বাচনী ট্রেনে রাজনীতিবিদরা, তারপরও হতাশ ভোটাররা!

ক্রাইম প্রতিদিন : কোন ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা কোন অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির উদ্ভব না হলে আগামী ...