Home / অন্যান্য / লাইফস্টাইল / রোজার আগে যে কাজগুলো করা জরুরি

রোজার আগে যে কাজগুলো করা জরুরি

ক্রাইম প্রতিদিন : দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র মাহে রমজান মাস। আত্মশুদ্ধির মাস। সারাবিশ্বের মুসলিম উম্মার কাছে এ পবিত্র মাস অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমাদের জীবনের যাপনের অভ্যাসে একটি বড় পরিবর্তন আসে এই শিক্ষার মাসে। আর এ রমজানকে ঘিরে সারাদিন সংযম দিয়ে ইফতারের সময় থাকে নানা রকম আয়োজন তো রয়েছেই, পাশাপাশি সেহরিতে ঠিক কী রান্না করলে মুখে রুচবে তাই নিয়েও থাকে ভাবনা।

রসজান মাস অন্যান্য মাস থেকে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ তাই এ মাসটায় ইবাদত-বন্দেগীর পাশাপাশি রান্নাবান্নায়ও দিতে হয় একটু বাড়তি সময়। তবে সারাদিন সংযম থাকায় বাজার থেকে শুরু করে ঘরের কাজ করাটাও হয়ে যায় অনেক কষ্টকর। তাই রোজা শুরু হওয়ার আগেই যদি রান্নাঘরের দিকটা গুছিয়ে নেয়া যায় অর্থাৎ পুরো মাসের বাজারটা করে রাখা যায় তাহলে চিন্তা অনেকটা কমে।

পবিত্র এ মাসে রোজায় ইফতার ও সেহরির মেনু তৈরি করা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। তাই বাজার করার সুবিধার্থে আগেভাগেই তা শুরু হওয়ার আগে সংগ্রহ করে রাখুন। তাহলে রমজানে প্রেসার কম হবে। একটু সময় নিয়ে সারা মাসের ইফতারে কী কী থাকবে, কী কী মজুদ রাখতে হবে এবং প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো কী পরিমাণে কেনাকাটা করতে হবে তার একটি তালিকা তৈরি করুন। রোজা শুরু হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় সব কিছু সংগ্রহ করুন।

পবিত্র মাস শুরু আগে আপনি মোটামোটি এই শুকনো উপকরণগুলো সংগ্রহ করে রাখতে পারেন, যেমন- ছোলা, ডাল, ময়দা, বাদাম, গুঁড়া দুধ এগুলো দুইভাগে বা পুরো মাসের জন্য একবারে কিনে মজুদ করতে পারেন। অন্যান্য যেমন- কেচাপ, শরবত তৈরির উপকরণ, পনির এসবও প্রয়োজন হিসেবে তালিকা করুন। রোজার শুরুর দিকে শুকনো খাদ্যদ্রব্য যেমন- শস্য, মসলা ও টিনজাত খাবার কিনে রাখুন।

তবে মাথায় রাখবেন তাজা শাকসবজি বেশি করে কিনতে যাবেন না যেন। ঠিক দুইদিন ব্যবহার করা যায় এমন হিসেব করে শাক-সবজি কিনুন। কারণ রোজায় টাটকা সবজি খেতেই বেশি ভালো লাগবে। তাই শাক-সবজি কিনুন ব্যবহারের দুদিন আগে। মাছ-মাংস সাতদিন বা দশদিনের জন্য একসঙ্গে কিনে রাখুন। যাতে করে তার আকার, বর্ণ ও স্বাদ ঠিক থাকে।

বাজার কোথায় করবেন? আপনি যেখান থেকে কেনাকাটা করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন সেখানেই কেনাকাটর কাজ সারুন। তবে ভালো হয় নিকটস্থ কোনো সুপার শপ থেকে কিনলে। কারণ সেখানে আপনি চাহিদামতো সবকিছুই পেয়ে যাবেন। সেজন্য আপনাকে এদিক-ওদিক ঘুরতে হবে না। আবার কোনো কোনো সুপারশপে রমজান উপলক্ষে বিশেষ ছাড় থাকে। তাই সেখান থেকে কেনাকাটা করলে কিছুটা সাশ্রয়ও হবে।

তবে রমাজানের আগে ঘরে এমন কিছু খাবার মজুদ রাখা প্রয়োজন, যাতে শেষ মুহূর্তেও চট করে তৈরি করে নেয়া যায়। রুটি, ফল, দুধ, ডিম, ওটমিল, মিষ্টি আলু, মাছ (কেটে ধুয়ে রাখা), বার্লি, সিরিয়াল, সবজি (কেটে বরফ করে রাখা), মটরশুঁটি (সিদ্ধ) এসব রাখা যেতে পারে।

খাবার সহজে প্রস্তুতকরণ ও অতিরিক্ত খাবার সংরক্ষণের জন্য ফয়েল পেপার, পেপার টাওয়েল, প্লাস্টিক ব্যাগ, কয়েক আকারের ফুড কন্টেইনার (কাচ ও ওভেন প্রুভ, যাতে সহজেই গরম করা যায়) রান্নাঘরে রাখতে হবে। এদিকে রোজা শুরুর আগেই পরিষ্কারের কাজ শেষ করে ফেলা ভালো। চুলা, মাইক্রোওয়েভ (ভেতর ও বাইরে), কেবিনেট, ফ্রিজ, জানালা, রান্নাঘরের কাউন্টার, স্টোভের ওপর ও মেঝে পরিষ্কার করে নিতে হবে। এসব কাজ সেরে ফেলার পর দেখা যাবে রোজার গোটা মাসটি নিশ্চিন্তে গুছিয়ে কাজ করতে পারছেন।

রমজানে রান্নাঘরে কাজ বেশি থাকে বিধায় সহজে সেসব করার উপায় বের করে ফেললে সময় বাঁচানো যাবে। যেমন বেশি পরিমাণে পেঁয়াজ কুচি করে ফ্রিজে রেখে দিন, বাটা মসলাগুলো একবারে বেশি করে তৈরি করে ডিপফ্রিজে রাখুন, এতে কয়েক দিন চলে যাবে।

ইফতারের আগে ফল কেটে লবণপানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এতে তা বাদামি রঙ ধারণ করবে না। এ রকম কাজ সহজ করে নেয়ার অনেক উপায় রয়েছে। রান্নার বই ও ইন্টারনেট থেকে সহজতম রান্নার উপায়গুলো রপ্ত করলে কম সময়ে অনেক কাজ শেষ করে ফেলা যাবে। ফলে কম সময়ে দ্রুত কাজ করতে পারবেন আপনি। রমজান মাসে কি করবেন, কেন করবেন, কিভাবে করবেন?

রহমত, মাহফিরাত ও নাজাতের সুখবর নিয়ে আসে মাহে রমজান। এ রমজানের সে সদ্ববহার করতে পেরেছে সেই সফলকাম, আর যে পারেনি সে পুরোপুরি ব্যর্থ। রমজানের পরিপূর্ণ হক আদায়ে আসুন জেনে নিই কি করা উচিত, আর কি অনুচিত…

১। রমজান মাসে কুরআন তিলওয়াত করুন বেশী বেশী, পারলে কয়েকবার খতম করুন। এ মাসে প্রতি হরফের জন্য ৭০ নেকী বরাদ্দ করা হয়ে থাকে যেটি পূর্বে ১০ নেকী ছিলো।

২। নিয়মিত নামাজ আদায় করুন, এক ওয়াক্তও মিস করবেননা।

৩। নিয়মিত হাদিস পড়ুন এবং সে অনুযায়ী আমল করুন।

৪। রোজা রাখার উদ্দেশ্যে সেহরী খান এবং সময়মত ইফতার করুন।

৫। কোনসময় ভোর রাতে উঠতে না পারলেও নিয়ত করে রোজা রেখে দিন।

৬। রোজা রেখে কোনপ্রকার খারাপ কাজে শামিল হবেননা।

৭। ঝগড়া বিবাদ, মিথ্যা বলা, গীবত করা এসব থেকে দূবে থাকবেন।

৮। জীবনে যে নামাজ কখনো পড়েননি, তাহাজজুদ, আউয়াবীন, ইশরাক এসব নামাজ পড়ুন।

৯। সালাতুত তসবীহ পুরো মাসে অন্তত একবার হলেও পড়ুন।

১০। বেজোড় রাত্রিগুলোতে বেশী বেশী ইবাদত করুন।

১১। সর্বোপরি আল্লাহর নিকট বেশী বেশী তাওবাহ করুন।

রমজান মাসে উপরের কাজগুলো করার চেষ্টা করুন।

রাসূল (সা:) বলেছেন, যে রমজান চলে গেল, কিন্তু গুনাহ মাফ করাতে পারলোনা, তার জন্য ধ্বংস অনিবার্য। আল্লাহ আমাদের রমজানের হক আদায়ের তাওফীক দান করুন।