শ্যালিকার পর দুই মেয়ের গলা কাটে আব্বাস

, সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) : দীর্ঘদিন আগেই আব্বাসের (৩৬) ভায়রা তথা নিহতের স্বামী সুমন মিয়া পারিবারিক একটি ঘটনার জের ধরে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে চড় মেরেছিলেন আব্বাস কে। সেই থেকে ক্ষোভের জন্ম নেয়ায় এ পরিবারের ওপর জেদ চাপে আব্বাসের।

এছাড়াও কোনো কিছু হলেই তার স্ত্রী ও সন্তান চলে আসে বোন নাজনীনের বাসায়। সেই থেকে তার মনে ক্ষোভ জন্মাতে থাকে। পরিকল্পনা করতে থাকে এ বাড়ির অস্তিত্বই রাখবে না বলে। যেন আর কখনো এ বাড়িতে না আসতে পারে তার পরিবার। বৃহস্পতিবার রাতে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইনে এক সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যম কর্মীদের এসব তথ্য জানান নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ (এসপি) সুপার হারুন অর রশীদ।

তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য হত্যাকারী দিয়েছে এবং সে নিজেই হত্যা করেছে বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।

এসপি জানান, মূলত চড় দেয়া ও পরিবারের সদস্যরা ঝগড়া হলেই বোনের বাসায় চলে আসায় তাদেরকে হত্যার পরিকল্পনা করে আব্বাস।

এসপি আরও জানান, তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে স্থান শনাক্ত করে সিদ্ধিরগঞ্জ পাওয়ার হাউসের পাশের একটি কমিউনিটি সেন্টারের পর্দা ঘেরা টেবিলের নিচ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

বৃহস্পতিবার বিকালে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি কামরুল ফারুকের নেতৃত্বে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এএসআই মোমেনসহ একদল পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

জিজ্ঞাসাবাদে আব্বাস জানায়, তার শ্যালিকা (নাজনীন) সকালের নাস্তা বানিয়ে দিলে স্ত্রী সেটি খেয়ে ও দুপুরের খাবার নিয়ে কাজে বেরিয়ে যায়। পৌনে ৭টায় স্ত্রী বের হয়ে গেলে প্রথমে শ্যালিকাকে গলা কেটে হত্যা করে আব্বাস। পরে একে একে শ্যালিকার দুই কন্যা সন্তান নুসরাত (৮) ও খাদিজাকেও (২) হত্যা করে সে। সবার শেষে নিজের প্রতিবন্ধী মেয়ে সুমাইয়াকে (১৫) সামনে পেয়ে তাকেও কুপিয়ে জখম করে দ্রুত পালিয়ে যায়। এর আগে সকালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সিআই খোলা এলাকার ৬তলা একটি ভবন থেকে নিহত মা নাজনীন ও দুই মেয়ে নুসরাত ও খাদিজার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আহত সুমাইয়াকে (১৫) আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শেয়ার করে আমাদের সঙ্গে থাকুন