তথ্য গোপন করে চিকিৎসা, চিকিৎসক ও পুলিশসহ ১৮ জন কোয়ারেন্টিনে

  • ক্রাইম প্রতিদিন ডেস্ক
  • ২০২০-০৪-০৪ ২১:০১:১১
image

চট্টগ্রামে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়া রোগীর সংস্পর্শে আসা বেসরকারি ন্যাশনাল হাসপাতালের ৩ চিকিৎসক ও পুলিশের একজন সাব-ইন্সপেক্টরসহ ১৮ জনকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে। আক্রান্ত ওই ব্যক্তি বিদেশ ফেরতের তথ্য গোপন করে বেসরকারি ন্যাশনাল হাসপাতালে শ্বাসকষ্টজনিত রোগের চিকিৎসা নিয়েছিলেন।

করোনা সন্দেহে ওই ব্যক্তির নমুনা পরীক্ষা করা হলে পজেটিভ ধরা পড়ে। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ১৮ জনকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বী ১৮ জনকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানোর বিষয়টি শনিবার যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে করোনা আক্রান্ত ৬৭ বছর বয়সী সেই ব্যক্তির চিকিৎসা চলছে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ইউনিটে। তিনি র্দীঘদিন ধরে ডায়াবেটিস ও উচ্চ

রক্তচাপজনিত রোগে ভুগছেন। শনিবার বিকাল পর্যন্ত তার শরীরের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে সিভিল সার্জন জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, গত ১২ মার্চ স্ত্রী, এক কন্যা ও জামাতাসহ ওমরা হজ্ব পালন শেষে দেশে ফেরেন করোনা আক্রান্ত ওই ব্যক্তি। তিনি গত ২১ মার্চ শ্বাসকষ্টজনিত রোগে

ভুগতে শুরু করেন। অসুস্থতা দেখা দিলে তাকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় নগরীর মেহেদীবাগ এলাকায় অবস্থিত বেসরকারি ন্যাশনাল হাসপাতালে। কিন্তু আক্রান্ত

ওই ব্যক্তিকে যারা হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন তারা রোগী বিদেশ ফেরত হওয়ার তথ্যটি গোপন করেন।

এদিকে চকবাজার থানার ওসি নিজাম উদ্দিন বলেন, কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত ওই ব্যক্তি সৌদি থেকে ফেরার পরও কোয়ারিন্টিনে যাননি-

এলাকাবাসীর এমন অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনা তদন্তে বুধবার তার থানার একজন সাব-ইন্সপেক্টরকে পাঠানো হয়েছিল ওই ব্যক্তির দাম পাড়ার বাসায়। তখন ওই

ব্যক্তির মেয়ে তাদের কাছে তথ্য গোপন করেন। উল্টো পুলিশের বিরুদ্ধে ‘অযথা’ হয়রানির অভিযোগ আনেন। সৌদি থেকে আসলেও বিমানবন্দর থেকে ছাড়পত্র নিয়েই তার বাবা ফিরেছেন বলে জানান।

ওসি আরও বলেন, যদি তারা সত্য ঘটনাটি বলতেন এবং তথ্য গোপন না করতেন তবে একদিন আগেই ব্যবস্থা নেওয়া যেত। এই বাসায় সৌদি ফেরত ওই ব্যক্তিটিকে দেখতে তার (আক্রান্তের) অনেক স্বজন এসেছেন এবং গেছেন। এখন তারাও ঝুঁকিতে পড়েছেন। আক্রান্তের বাসায় তদন্তের জন্য যাওয়া চকবাজার থানার সেই সাব-ইন্সপেক্টরকেও কোয়ারিন্টিনে পাঠানো হয়েছে বলে জানান ওসি।

শুক্রবার নমুনা পরীক্ষায় ওই ব্যক্তির করোনাভাইরাস সংক্রমণ ধরা পড়ার পর রাতেই দামপাড়া এলাকায় ওই ব্যক্তির বাসভবনসহ আশপাশের মোট ছয়টি ভবন লকডডাউন করে দেয়া হয়। এছাড়া ওই ব্যক্তির মেয়ের শ্বশুরবাড়ি সাতকানিয়ায় ১২টি ও পটিয়ার একটি বাড়ি লকডাউন করা হয়। বর্তমানে ওই ব্যক্তির কন্যা -স্বামীসহ পটিয়ায় রয়েছেন।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন জানান, আক্রান্ত রোগীর পরিবারের তিন সদস্যের শরীরের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য বিআইটিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল আসবে আরও কেউ তারা সংক্রমিত হয়েছেন কিনা।

সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে বর্তমানে ৩৫৩ জন হোমকোয়ারেন্টিনে রয়েছেন। যাদের অধিকাংশ প্রবাসী। এরমধ্যে ৫১৮জন নির্দিষ্ট সময় শেষ হওয়ায় হোমকোয়ারেন্টিন মুক্ত

হয়েছেন। গত ২৪ ধন্টায় নতুন আরও দুইজনসহ চারজন আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন। তারা চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এ পর্যন্ত ৮৭জনের নমুনা পরীক্ষা করেছে বিআইটিআইডি। যারমধ্যে একজন পজেটিভ ধরা পড়ে।

 
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ