পাওয়া গেছে করোনার প্রথম ঔষুধ?

  • বিবিসি বাংলা
  • ২০২০-০৪-৩০ ১৫:১৩:১৯
image

করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারীতে বিশ্বব্যাপী আক্রান্তের সংখ্যা ৩২ লাখ ছাড়িয়েছে। আর এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে মৃতের সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজারে।

এখন পৃথিবীর প্রতিটি মানুষের মনে সম্ভবত একটাই প্রশ্ন, কোভিড-১৯ চিকিৎসার ঔষুধ পাওয়া যাবে কবে?

বিবিসির স্বাস্থ্য ও বিজ্ঞান বিষয়ক সংবাদদাতা জেমস গ্যালাহার লিখছেন, ঔষুধটি ‘হয়তো’ পাওয়া গেছে।

আমেরিকান সরকারের সংক্রামক ব্যাধি বিষয়ক শীর্ষ বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউচি বলছেন, করোনাভাইরাসের পরীক্ষমূলক চিকিৎসায় ট্রায়াল রান দিয়ে অর্থাৎ রোগীর ওপর পরীক্ষা চালিয়ে প্রাথমিক যে ফলাফল পাওয়া গেছে তাতে তিনি আশাবাদী।

জিলেড নামের একটি আমেরিকান ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি তাদের উৎপাদিত ওষুধ রেমডিসিভির নিয়ে এক বিবৃতি দিয়েছে, তবে কোন তথ্য-প্রমাণ দেয়নি।

বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এ্যালার্জি এ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস – এর চালানো এক পরীক্ষা বা ট্রায়াল রানের পর ‘ইতিবাচক উপাত্ত’ পাওয়া গেছে এবং তাদের এই পরীক্ষা তাদের ‘প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছে।’

রেমডিসিভির হচ্ছে এমন একটি এ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ যা ইবোলা রোগের চিকিৎসার জন্য তৈরি হয়েছিল।

বিবিসির জেমস গ্যালাহার জিলেডের এই বিবৃতি ব্যাখ্যা করে বলছেন, কঠিন মেডিকেল শব্দ বাদ দিয়ে সোজা কথায় বলা যায়, জিলেড জানাচ্ছে যে রেমডিসিভিরে কাজ হয়।

তিনি বলেন, ‘তবে আমরা যা জানি না, তা হলো কতটা ভালোভাবে এটা কাজ করে, এবং তাদের তথ্যপ্রমাণ কতটা জোরালো।’

তবে কোম্পানিটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে রেমডিসিভির যত আগে আগে দেয়া যায় ততই কার্যকর।

জিলেড বলছে, ‘আগেভাগেই চিকিৎসা দেয়া হয়েছে এমন শতকরা ৬২ ভাগ রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া সম্ভব হয়েছে। আর যেসব রোগীকে দেরিতে দেয়া হয়েছে তাদের শতকরা ৪৯ ভাগ হাসপাতাল ত্যাগ করেছে।’

অবশ্য এ ঘোষণার আগে বিজ্ঞান সাময়িকী ল্যান্সেট চীনে রেমডিসেভিরের একটি পরীক্ষার ফল উদ্ধৃত করে জানায় যে এতে কাজ হয় নি – তবে এ জরিপ সম্পূর্ণ হয় নি কারণ তখন যথেষ্ট রোগী ছিল না।

জেমস গ্যালাহার বলছেন, নিশ্চিতভাবে জানতে হলে আমাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে পূর্ণাঙ্গ উপাত্ত পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

ফিনান্সিয়াল টাইমস জানাচ্ছে, বুধবার এ খবর বেরুনোর পর এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘ইতিবাচক’ বলে এর প্রশংসা করার পর জিলেডের শেয়ারের দাম ৬ শতাংশেরও বেশি বেড়ে যায়।

আমেরিকার করোনাভাইরাস টাস্ক ফোর্সের ডাক্তার এ্যান্থনি ফাউচি বলেন, প্রাথমিক ফল খুবই আশাব্যঞ্জক।

নিউজটি শেয়ার করুন


নিউজ সম্পর্কে মতামত লিখুন


 
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ