পাটুরিয়া ঘাটে অসহায় পোশাক কর্মীরা

  • ক্রাইম প্রতিদিন ডেস্ক
  • ২০২০-০৫-০৫ ২০:১৭:০৬
ক্রাইম প্রতিদিন

অসহায় পোশাক কর্মীরা। কাজে যোগ দিতে হবে। নইলে চাকুরী চলে যাবে,পাবে না বকেয়া বেতন। চাকরি হারানোর এমন আতংক আর করোনা ভাইরাসের সাথে লড়াই করেই তারা ছুটে চলেছে কর্মস্থলে। গত ২৬ এপ্রিল থেকে পোষাক কারখানার শ্রমিকদের বিরামহীন পদচারনায় বিপর্যস্ত পাটুরিয়া ফেরি ঘাট। 

মঙ্গলবার সকালের চিত্র ছিল ভয়াবহ। দৌলতদিয়া প্রান্ত থেকে একেকটি ফেরিতে কমপক্ষে ৪ থেকে ৫শ গার্মেন্ট কর্মীরা গায়ে গায়ে গা লাগিয়ে আসছে পাটুরিয়া ঘাটে। করোনা ভাইরাস মোকাবেলায়  সামাজিক দুরুত্ব বজায় রাখার কথা থাকলেও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ঘাটে কোন ধরনের নিয়মনীতি  দেখা যায়নি।

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ২১টি জেলার মানুষের রাজধানী ঢাকায় আসা যাওয়ার প্রধান প্রবেশদ্বার হচ্ছে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুট। দেশের করোনা ভাইরাসের মহামারি ঠেকাতে সারা দেশের সাথে এই নৌপথের যোগাযোগ কার্যত বন্ধ ছিল বেশ কয়েক দিন। কিন্ত গেল মাসের ৪ এপ্রিল হঠাৎ পোষাক কারখানা খোলার খবরে চরম দুর্ভোগ সাথে নিয়ে  দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার পোশাক কর্মীরা কর্মস্থলে ফিরতে পাটুরিয়া ও দৌলতদিয়া ঘাটে অবস্থান করে। এক-দুই দিনে হাজার হাজার শ্রমিক চলে যায় ঢাকা ও তার আশপাশের গার্মেন্ট গুলোতে।

এরপর গেল ২৬ এপ্রিল গার্মেন্ট খুলে দেয়ায় দেশের ওই সব অঞ্চলের গার্মেন্ট শ্রমিকরা দলে বেধে ছুটতে থাকে রাজধানীমুখী। গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও ভিন্ন উপয়ে তাদের ছুটে চলা অব্যাহত রয়েছে। অধিক ভাড়া গুনেই তারা প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, সিএসজি, হ্যালোবাইক, মটরসাইক, রিকসা, ভ্যান ও ছোট ট্রাকে গাদাগাদি করে ছুটে চলেছেন। কারন এই বাহন গুলোই তাদের একমাত্র ভরসা। 

পাটুরিয়া ঘাট থেকে জনপ্রিতি ৫শ থেকে হাজার টাকায় গার্মেন্ট কর্মীরা ওই সব ক্ষুদে যানবাহন যোগে কর্মস্থলে ফিরছেন। 

আগের দিন গুলোর মতো অব্যাহতভাবে মঙ্গলবার সকাল থেকে সারা দিনই গার্মেন্ট কর্মীরা চরম ভোগান্তি সাথে সংগ্রাম করে কর্মস্থলে ফিরতে দেখা গেছে। পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ১৭টি ফেরি মধ্যে ৪-৫টি ফেরি দিয়ে সীমিত আকারে জরুরী পণ্যবাহী পরিবহন পার পার করার কথা থাকলেও সেখানে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। ফেরিতে পরিবহনের বালাই নেই,আছে শুধু গার্মেন্ট কর্মীরা।  অস্বাভাবিক ভাবে ফেরিতে  এক ধরনের গরু-ছাগালের মতো গাদাগাদি করেই নদী পথ পাড়ি দিচ্ছেন তারা। এ দৃশ্য দেখে বোঝার উপায় নেই দেশে করোনা ভাইরাসের কোন প্রাদুর্ভাব আছে।

ফেরি থেকে পাটুরিয়া ঘাটে নেমেই আরেক দফা যুদ্ধ করতে হয় পরিবহনের জন্য। গার্মেন্ট কর্মীদের বহনের জন্য বড় কোন যানবাহন নেই, আছে শুধূ প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, সিএসজি, হ্যালোবাইক, মটরসাইক, রিকসা, ভ্যান ও ছোট ট্রাক। এই বাহনের চালক ও  হেলপাড়রা ভাড়া হাকাচ্ছেন আকাশ ছোয়া। তারপরও শত কষ্ট উপক্ষো করেই গার্মেন্ট কর্মীরা গাদাগাদি করে ছুটছে ঢাকার পথে। গার্মেন্ট কর্মীরা জানিয়েছেন, চাকুরী বাঁচাতে হবে। নইলে না খেয়ে মরতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন


নিউজ সম্পর্কে মতামত লিখুন


 
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ