শপিং মল খুলে দিয়ে সরকার 'ফৌজদারি অপরাধ' করেছে : ফখরুল

  • ক্রাইম প্রতিদিন ডেস্ক
  • ২০২০-০৫-০৮ ১৭:০৬:০১
image

করোনা মহামারীর মধ্যে গার্মেন্ট শ্রমিকদের নিয়ে টানাহেঁচড়ার পর ঈদের কেনাকাটার জন্য শপিং মল খুলে দেওয়ার কড়া সমালোচনা করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার জনগণের বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারের ওপর আঘাত করছে। এটা ক্রিমিনাল অফেন্স (ফৌজদারি অপরাধ)।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) প্রদান অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম এ অভিযোগ করেন।

বিএনপির মহাসচিব বক্তব্যেও শুরুতেই বলেন, 'কী বলব, নির্বাক হয়ে যাচ্ছি। কারণ চারদিকে সরকারের ব্যাপার-স্যাপার দেখে এটাকে তুঘলকি বলব, না কি বলব বুঝতে পারছি না। তারা যেভাবে পরিস্থিতিকে একেবারে চূড়ান্ত বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছেন, তা অবিশ্বাস্য। কোনো ন্যূনতম দায়িত্বশীল সরকার এই ভাবে জনগণকে নিয়ে খেলা করতে পারে না।

মির্জা ফখরুল ইসলামের অভিযোগ সরকার দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, অর্থনীতিবিদ, রাজনীতিক, বিজ্ঞানী কারো কাছ থেকেই কোনো পরামর্শ নিচ্ছে না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কিছু অযোগ্য, অপদার্থ আমলা এবং চাটুকার কিছু স্বাস্থ্যসেবার কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কারও মতামত গ্রহণ করছেন বলে শুনিনি। মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়ে ওনারা কী করতে চাচ্ছেন।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, আজকে শপিং মল খুলে দিয়েছেন, কারণ ঈদের বাজার করতে হবে, ইকোনমিকে চালু রাখতে হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাহলে এতদিন কী করলেন। এই যে মধ্য আয়ের দেশে চলে গেলেন, ইকোনমিতে বিশ্বের রোল মডেল হলেন। সেখানে আপনারা কী করেছেন, কেনো ইকোনমিকে ধারণ করার শক্তি উপার্জন করতে পারলেন না এই কয় দিনের জন্য। কারণ আপনারা পুরোটাই মিথ্যা কথা বলে এসেছেন, মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।

আজকে প্রতিটি মানুষ জীবনের ঝুঁকির মধ্যে-এমন দাবি করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, গার্মেন্টগুলো নিয়ে কী হয়েছে। যারা সংক্রমিত হয়ে ফিরে গিয়েছিল, তারা আবার ঢাকায় ফিরেছে। জাতিকে এভাবে ভয়াবহ ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া ক্ষমাহীন অপরাধ। আমিতো মনে করি, এটা ভুল নয়, ক্রিমিনাল অফেন্স। আপনারা মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারের জায়গায় আঘাত করছেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে 'টিপটপ জেন্টেলম্যান' উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, তিনি সুযোগ পেলেই বিএনপিকে আক্রমণ করেন সুন্দর এবং তাঁর সুলতিত ভাষায়। আমি একটাই কথা বলতে চাই, আপনি যে কথাগুলো বলেন, আপনি কী সেটা পরে আবার শোনেন যে কী বলছেন। শোনা উচিত এজন্য যে, শুনলে আপনি নিজেই বুঝবেন জনগণ কথাগুলো বিশ্বাস করছে না। নিজেই বুঝবেন যে কথাগুলো সঠিক নয়। তিনি বলেন, আজকে সরকারের তরফ থেকে আক্রান্ত ও সুস্থ এবং মৃত্যুর যে ডেটা দেওয়া হচ্ছে আমার তো মনে হয় না বাংলাদেশের কোনো মানুষ তা বিশ্বাস করে।'

বিএনপির মহাসচিব বলেন, যারা এই চরম দুর্দিনে জনগণকে সঠিক তথ্য দিচ্ছে না, বিভ্রান্ত করছে, এটা ক্রিমিনাল অফেন্স না তো কি বলব। কারণ প্রশ্নটা হচ্ছে জীবনের।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, 'আজকে এই দু:সহ অনিশ্চয়তা, ভীতি, এবং জীবনের ঝুঁকির মধ্যেও সাংবাদিকদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে, তাদের কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। আজকে সকালেই দেখলাম, একজন কার্টুনিস্ট এবং একজন ব্লগারকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে। গতকালই দিনে দেখলাম কয়েকজন সাংবাদিককে কারাগারে নেওয়া হয়েছে।'

মির্জা ফখরুল বলেন, কী দেশ, কী রাষ্ট্র, কী সরকার। যেই সাংবাদিককে গুম করে ফেলা হলো, তাঁর পরিবার অস্থির হয়ে খোঁজ করেও পলে না। যখন তাঁকে পাওয়া গেল বেনাপোলে, তখন তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে মামলা দেওয়া বেআইনি অনুপ্রবেশের। আজকে সত্য প্রকাশের দায়ে সংবাদকর্মীদের কারাগারে নেওয়া হচ্ছে। তারা কোনো ভিন্নমত তারা সহ্য করছে না।

বিএনপির মহাসচিব এই সময়ে সাংবাদিকদের চাকরিচ্যুতির নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের চাকরি ফেরত দিতে মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সরকারের ৯৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনায় সাংবাদিকদের জন্য কোনো বরাদ্দ না রাখার সমালোচনা করেন।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, 'কেন, এত সফল সরকার, এত রাজস্ব আয় তাদের; সেগুলো থেকে কী একটু আলাদা করে সাংবাদিকদের বিশেষ বেতন-ভাতার জন্য বরাদ্দ দেওয়া যায় না?'

অনুষ্ঠানে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, করোনা পরিস্থিতি দিনকে দিন চরম পরিণতির দিকে যাচ্ছে। কিন্তু দুর্যোগের মধ্যেও সরকারের ফ্যাসিবাদের আঘাত থামছে না। বিরোধী দলের গঠনমূলক সমালোচনাকে তারা বিকৃত করে উপহাস করে, তুচ্ছতাচ্ছিল্যভাবে উপস্থাপন করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন


নিউজ সম্পর্কে মতামত লিখুন


 
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ