ক্ষুব্ধ হয়ে চাকরি ছাড়লেন খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা

  • যুগান্তর
  • ২০২০-০৫-২০ ২০:৪১:২৪
image

সিলেটের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক (আরসি-ফুড) মোহাম্মদ মামুনুর রশিদকে খাদ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক পদে বদলি করা হয়েছে। আর খাদ্য অধিদফতরের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আমজাদ হোসেনকে দেয়া হয়েছে সিলেটের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব।

এছাড়া ময়মনসিংহের জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জাহাঙ্গীর আলমকে গাজীপুরে, গাইবান্ধার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জহিরুল ইসলামকে ময়মনসিংহে এবং ভোলার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রিয়াজুর রহমান রাজুকে গাইবান্ধার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার খাদ্য মন্ত্রণালয় এ আদেশ জারি করে। তবে মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্দ হয়ে ওইদিনই চাকরি থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন সিলেটের আরসি-ফুড ও ২১তম বিসিএসের ফুড ক্যাডারের কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন খাদ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সারোয়ার মাহমুদ। মঙ্গলবার তিনি বলেন, ‘সিলেট আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক চাকরি থেকে অব্যাহতি/স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণের আবেদন করেছেন। এটি এখন আমরা খাদ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠাব। মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।’

তার বিরুদ্ধে খাদ্য কর্মকর্তাদের বিদ্যমান বদলি নীতিমালা লঙ্ঘন করে একাধিক বদলি করাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে বলেও জানান সারোয়ার মাহমুদ।

খাদ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদফতর সূত্র জানায়, গত ১২ মে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের মাঠপর্যায়ের খাদ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বোরো ধান সংগ্রহ ও কাটার বিষয়ে জানতে ভিডিও কনফারেন্স করেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার ও খাদ্যসচিব নাজমারা খানুম। এ সময় সিলেট বিভাগের মাঠের বেশ কিছু তথ্য জানতে চান তারা। তবে আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দেয়া তথ্যের সঙ্গে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকদের দেয়া তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি দেখা দেয়। এতে খাদ্যমন্ত্রী ও সচিব তাৎক্ষণিকভাবে আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের প্রতি অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এমনকি তার যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয় বলে সূত্র জানায়।

ভিডিও কনফারেন্স শেষ হলে সিলেট আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মামুনুর রশিদকে বদলি করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। এরপর ১৪ মে তাকে সিলেটের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক (আরসি-ফুড) থেকে খাদ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক পদে বদলি করা হয়। এতে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওইদিনই চাকরি থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন পাঠান খাদ্য অধিদফতরে।

আবেদনে মামুনুর রশিদ বলেন, ‘আমি ২১তম বিসিএসের মাধ্যমে খাদ্য বিভাগে যোগদান করে গত ১৭ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছি। এই সময়ে কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, ফেনী, নাটোর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, বরগুনা, বরিশালসহ বিভিন্ন জেলায় জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করেছি। বর্তমানে সিলেটের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক (আরসি-ফুড) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। এই দায়িত্ব পালনকালে আমি একা থেকেছি। দীর্ঘদিন পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় খাওয়া-দাওয়ায় অনিয়ম থেকে শরীরে নানা ধরণের রোগব্যাধি দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি মানসিক সমস্যাও দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে স্মরণশক্তি দারুণভাবে লোপ পেয়েছে। বিভিন্ন স্নায়বিক সমস্যার কারণে মোবাইল ফোন ব্যবহারসহ ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ দাফতরিক কাজ সফলভাবে করতে পারছি না।’

এমতাবস্থায় উল্লেখিত বিষয়ের পর তাকে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ দফতরে চাকরি অব্যাহত রাখা সমীচিন হবে না। ফলে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি বা স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করতে অনুরোধ জানানো হয় চিঠিতে।

খাদ্য অধিদফতর সূত্র জানিয়েছে, এর আগে ২০১৭ সালে তিনি কুমিল্লার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক থাকাকালে লাকসাম খাদ্যগুদামে বড় ধরণের চাল চুরির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় সরকার কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে মামুনুর রশিদকে সাময়িক বরখাস্ত করে সরকার। এরপর সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম খাদ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব ছাড়ার দু’একদিন আগে তার বরখাস্ত তুলে নিয়ে সিলেটের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক পদে পদায়ন করেন।

এ প্রসঙ্গে সিলেটের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক (আরসি-ফুড) মোহাম্মদ মামুনুর রশিদের বক্তব্য নিতে একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। প্রতিবেদকের পরিচয় দিয়ে এসএমএস পাঠানো হলেও তাতে তিনি সাড়া দেননি। তবে এ সংক্রান্ত তথ্য-প্রমাণাদি এই প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে।

অন্যদিকে অপর এক আলাদা প্রজ্ঞাপনে ময়মনসিংহের জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জাহাঙ্গীর আলমকে গাজীপুরে, গাইবান্ধার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জহিরুল ইসলামকে ময়মনসিংহে এবং ভোলার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রিয়াজুর রহমান রাজুকে গাইবান্ধার জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়, খাদ্য অধিদফতরের বিদ্যমান বদলি নীতিমালা অনুযায়ী এসব কর্মকর্তাকে দায়িত্বভার গ্রহণ ও হস্তান্তর করতে হবে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর থেকে এ পর্যন্ত দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও কর্মহীনদের তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তা হিসেবে ৯১ কোটি ৪৭ লাখ ৭২ হাজার ২৬৪ টাকা এবং এক লাখ ৭২ হাজার ৮১৭ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। ১০ টাকা কেজি দরের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি এবং বিশেষ ওএমএসের চাল বিতরণেও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকদের (ডিসি-ফুড) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন


নিউজ সম্পর্কে মতামত লিখুন


 
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ