বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু, তুরাগ তীরে লাখো মুসল্লির ঢল

  • স্টাফ রিপোর্টার
  • ২০২০-০১-১০ ০১:১৫:৪৬
ক্রাইম প্রতিদিন

রাজধানীর অদূরে টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে শুরু হয়েছে ৫৫তম বিশ্ব ইজতেমা। শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে ইজতেমা শুরু হওয়ার কথা থাকা থাকলেও বৃহস্পতিবার বাদ আসর আমবয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে আলমী শূরাদের তত্ত্বাবধানে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। 

আগামী ১২ জানুয়ারি রবিবার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে প্রথম পর্ব। এরপর চারদিন বিরতি দিয়ে ১৭ জানুয়ারি শুরু হয়ে চলবে ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে ইজতেমায় যোগ দিতে দেশ-বিদেশের মুসল্লিরা ট্রাক, পিকআপ, ট্রেনসহ বিভিন্ন যানবাহনে চড়ে লাখো মুসল্লির ঢল এখন তুরাগ তীরের বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে। 

বিশ্বের ৩৫টি দেশের দুই হাজার বিদেশি মুসল্লি ময়দানে উপস্থিত হয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য দেশের মুসল্লিরা আসার পথে রয়েছেন। মুসল্লিদের উদ্দেশে শুক্রবার বাদ ফজর বয়ান করবেন পাকিস্তানের মাওলানা ওবায়দুল্লাহ খূরশেদ। জোহরের নামাজ পড়াবেন বাংলাদেশের মুরব্বি মাওলানা যোবায়ের হাসান। এরপর বাদ জোহর বয়ান করবেন ফান্সের মাওলানা শেখ ইউনুস, বাদ আসর মাওলানা এহসান, বাদ মাগরিব বয়ান করবেন ভারতের মাওলানা আহম্মদ লাট। 

ইজতেমা মাঠের মুরুব্বি প্রকৌশলী মফিজুর রহমান জানান, দেশের তাবলিগ জামাতের মুসল্লি ও সর্বস্তরের মুসলমান এবং বিশ্বের প্রায় বিভিন্ন দেশের মুসল্লি  ইজতেমায় অংশ নেবেন। এবার পুরো ময়দানকে ৮৭ খিত্তায় ভাগ করে আগত মুসল্লিদের জেলা অনুযায়ী অবস্থান নিশ্চিত করেছেন আয়োজকরা। তবে মুসল্লির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ময়দানের বাহিরে অবস্থান নিয়েছেন। 

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এস এম তরিকুল ইসলাম জানান, বিশ্ব ইজতেমা চলাকালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় মুসল্লিদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকবে। সরকারি-বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মুসল্লিদের জন্য চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে স্থাপন করা হয়েছে বিশেষ মেডিকেল টিম। মাঠের আশপাশের খাবার দোকান ও আবাসিক হোটেলের মান ঠিক রাখতে ১২টি ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছেন। সেনাবাহিনীর সহায়তায় তুরাগ নদীতে তৈরি করা হয়েছে ছয়টি ভাসমান সেতু। 

গাজীপুর মেট্টোপলিটন পুলিশ কমিশনার আনোয়ার হোসেন জানান, আগত লাখ লাখ মুসল্লির নিরাপত্তায় পুলিশ, র‌্যাব, গোয়েন্দাসহ যৌথ বাহিনীর প্রায় ১০ হাজার সদস্য ৫ স্তরে ভাগ হয়ে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে ১৪টি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। থাকছে পুরো ময়দানজুড়ে সিসিটিভি, আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টর। খিত্তায় খিত্তায় নিরাপত্তা চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তায় এবার ইজতেমায় সাড়ে ৯ হাজার পুলিশ সদস্য কাজ করবে। নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর পাঁচটি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র চালু থাকবে।

র‌্যাবের মুখপ্রাত্র লে. কর্নেল সরওয়ার-বিন-কাশেম জানান, প্রতি বছরের ন্যায় বাড়তি পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন মাঠের ভেতর ও বাইরে বিভক্ত হয়ে কাজ করবে। র‌্যাবের দুটি হেলিকপ্টার ইজতেমা মাঠের আকাশে টহল দেবে। র‌্যাবের পক্ষ থেকে ১০টি ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। নজরদারির জন্য মাঠের চারদিকে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। 

গাজীপুর সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আগত মুসল্লিদের সেবায় ২৪ঘণ্টা সেবা প্রদানে কাজ করছে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ। এবার অনেক মুসল্লি ইজতেমায় শরিক হতে ময়দানে উপস্থিত হয়েছেন। এছাড়া ময়দানের বাহিরে অবস্থানকৃত মুসল্লিদের জায়গা দেওয়ার বিষয়ে স্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মালিক ও বাড়িওয়ালাদের পরিত্যাক্ত জায়গা মুসল্লিদের ব্যবহার করতে দেওয়ার আহ্বান জানান। 

স্থানীয় এমপি জাহিদ আহসান রাসেল জানান, ইজতেমা আয়োজক কমিটির মুরব্বিদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। তিনি জানান, টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমায় আসা দেশি-বিদেশি মেহমানদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন


নিউজ সম্পর্কে মতামত লিখুন


 
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ