ভুলই জীবন, ভুলই মরণ!

  • ক্রাইম প্রতিদিন ডেস্ক
  • ২০২০-০৮-১৩ ১৯:৩৯:১৮
Crime Protidin, Bangla News, Crime News, Breaking News, Politics, Economies, National, International, Sports, Entertainment, Lifestyle, Tech, Education, Photo, Video

ভুল কী ? ভুল একটি প্রচলিত বাংলা শব্দ। কোনো কাজ বা কথা সঠিকভাবে সম্পন্ন না করাই ভুল। যেমন ১+১=৩। ভুল আছে বলেই ভুলের সঙ্গী হতে কেউ চায় না। কিন্তু ভুলে ভরাই আমাদের রঙিন জীবন। এই কথাটি প্রায় সবার জীবনে প্রকাশে বা অপ্রকাশ্যে, মনে মনে একবার না একবার উচ্চারণ করতে হবেই। একেবারে সাধারণ মানুষ হতে প্রতিষ্ঠিত জ্ঞানী, গুণী বিজ্ঞানীও ভুলের সঙ্গে জীবন যাপন করেছেন। ভুল শব্দটি উচ্চারণে এক ধরণের অনীহা, হতাশা, দুঃখ-দুঃখ ভাব ফুটে উঠে। ভুল থেকে শুদ্ধের আবির্ভাব। জীবনে সঠিক কথাবার্তা কর্মে প্রশংসা না পেলেও ভুলের জন্য কোনো না কোনোভাবে খেসারত বা তিরষ্কার শুনতে হয় সবার জীবনেই। শিশু জন্মের পর ভুল হয়। ভুলে ভুলেই তার সঠিক বাল্য শিক্ষা অর্জন হয়। ভুল শব্দটি উচ্চারণ ছাড়া কোনো শিশু সঠিক শব্দ উচ্চারণ করতে আজো পারে না এবং ভবিষ্যতেও পারবে না। একজন ছাত্র ভুলের খেসারতের জন্য কাঙ্ক্ষিত ফলাফল থেকে হয় বঞ্চিত আবার ভুল শুধরে নিয়ে একজন ছাত্র হয়ে যায় সর্বসেরা। অর্থাৎ ভুলের মাঝেই লুকায়িত সঠিক সন্ধানের আস্তানা। ভুল না করে জীবনের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে কেউ পৌঁছতে পারে না। আবার ভুলের জন্য দিতে হয় জীবন বিসর্জন। কৃষক ভুল না করে যদি সঠিক পরিমাণ কৃষি পদ্ধতি প্রয়োগ করে তাহলেই ফুটে কৃষকের মুখে হাসি। ভুল করে সঠিক সময়ে কৃষি পরিচর্যা না করার কারণে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় কৃষক মাথায় হাত দিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। ভুলের জন্য প্রেমিক-প্রেমিকা হয়ে যায় বিচ্ছিন্ন। ভুল শুধরে হয়ে যায় লাইলী-মজনুর স্মরণীয় প্রেমের ইতিহাসের অংশ। একটি ভুল সারা জীবনের কান্না। এটি প্রায় প্রচলিত বাক্য হয়ে গেছে। ভুলহীন মানুষ জগতে একজনও নেই। ভুলে ভুলে শিক্ষা লাভ করে হয়ে যায় শ্রেষ্ঠ কারিগর। যারা ভুলকে অবজ্ঞা করে তারা কোনো জায়গায়ই বড় হতে পারে না। আবার ভুল হবে বলে কোনো কাজ না করাও মস্ত বড় ভুল। মহাকাশ প্রদক্ষিণে ভুলে ভুলে শিক্ষা লাভ করে আজ স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন দেখে।

ভুল নিয়ে একটি গল্প বলি, দুই বন্ধু ছোটবেলা হতেই একনিষ্ঠভাবে চলাফেরা করতো। শিক্ষা জীবন শেষ করে কর্মজীবনেও দু'জন একই ডিপার্টমেন্টে কর্মজীবন শুরু করে। পাশাপাশি বাড়ি এবং দু'জনেই খুব টেলেন্ট হওয়ায় বন্ধুত্বের স্থায়ী রূপ লাভ করে। ভালোবাসা শুরু করে এক বন্ধু দশম শ্রেণি হতে, আরেক বন্ধু উচ্চ মাধ্যমিক থেকে। বিয়ে করে দু'জন-দু'জনার ভালোবাসার প্রেমিকদের। প্রথম বন্ধু কাল্পনিক, দ্বিতীয় বন্ধু বাস্তববাদী স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসে। প্রথম বন্ধু কোনো ঘটনা ঘটলে এটাকে কোনোরূপ ভুল-ত্রুটি, ভালো-মন্দ বিচার না করে হুট করে একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়। দ্বিতীয় বন্ধু যে কোনো ঘটনা সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করে ভুল-ত্রুটি পর্যবেক্ষণ করেই সিদ্ধান্ত নিতেন। তাদের মাঝে এই পার্থক্য থাকায় প্রথম বন্ধু হতে দ্বিতীয় বন্ধুর প্রমোশন হয়ে যায়। প্রথম বন্ধু ভুলকে ভুল না ভেবে আবেগে অনেক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিষ্ঠানের বড় ক্ষতি করে ফেলে। এরই মাঝে দু'জনার স্ত্রীর গর্ভের সন্তান আসে। সন্তান গর্ভপাত ঘটানোর জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয় দু'জনার সুবিধা মতো দুই হাসপাতালে। দ্বিতীয় বন্ধুর স্ত্রী মারা যান ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায়। ভাগ্যবিধাতা ও ডাক্তারের সঠিক চিকিৎসায় প্রথম বন্ধুর স্ত্রী ও সন্তান সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরে।

ভুল শব্দটি জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে তাড়া করবে, আবার এই ভুলই জীবনের উন্নতির শিখরে পৌঁছে দেবে। হাতে সময় খুব কম। রাসেল ও শিপন দৌড় দিয়ে ট্রেন স্টেশনে পৌঁছে তাড়াহুড়ো করে টিকেট নিয়ে বগির খোঁজে ব্যস্ত। এদিকে ট্রেন হুইসেল দিয়ে প্রস্থানের জানান দিচ্ছে। রাসেল ও শিপনের বগি নম্বর মধ্যন 'ণ', কিন্তু তারা ভুল করে দন্তন 'ন' বগিতে উঠে যায়। ট্রেন ছুটছে দুর্বার গতিতে। হঠাৎ বিকট শব্দে গাড়ির সামনের কয়েকটি বগি দুমড়ে মুচড়ে পড়ে গেলে অনেকেই হতাহত হলো। আর পেছনের বগিগুলোর যাত্রীরাও কম-বেশি আহত হয়েছে। ভুলে বগি নম্বর মধ্যন 'ণ'-তে না উঠায় রাসেল ও শিপন প্রাণে বেঁচে যায়। কারণ তাদের নির্ধারিত বগির সব যাত্রীই নিহত হয়েছে। সুতরাং অকপটেই বলা যায় ভুলই জীবন, ভুলই মরণ।

 
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ