ই-কমার্স নয়, যেন ভয়াবহ প্রতারণার ফাঁদ

  • ক্রাইম প্রতিদিন ডেস্ক
  • ২০২১-০৯-২৩ ০১:১৪:০৯
popular bangla newspaper, daily news paper, breaking news, current news, online bangla newspaper, online paper, bd news, bangladeshi potrika, bangladeshi news portal, all bangla newspaper, bangla news, bd newspaper, bangla news 24, live, sports, polities, entertainment, lifestyle, country news, Breaking News, Crime protidin. Crime News, Online news portal, Crime News 24, Crime bangla news, National, International, Live news, daily Crime news, Online news portal, bangladeshi newspaper, bangladesh news, bengali news paper, news 24, bangladesh newspaper, latest bangla news, Deshe Bideshe, News portal, Bangla News online, bangladeshi news online, bdnews online, 24 news online, English News online, World news service, daily news bangla, Top bangla news, latest news, Bangla news, online news, bangla news website, bangladeshi online news site, bangla news web site, all bangla newspaper, newspaper, all bangla news, newspaper bd, online newspapers bangladesh, bangla potrika, bangladesh newspaper online, all news paper, news paper, all online bangla newspaper, bangla news paper, all newspaper bangladesh, bangladesh news papers, online bangla newspaper, news paper bangla, all bangla online newspaper, bdnewspapers, bd bangla news paper, bangla newspaper com, bangla newspaper all, all bangla newspaper bd, bangladesh newspapers online, daily news paper in bangladesh, bd all news paper, daily newspaper in bangladesh, Bangladesh pratidin, crime pratidin, অনলাইন, পত্রিকা, বাংলাদেশ, আজকের পত্রিকা, আন্তর্জাতিক, অর্থনীতি, খেলা, বিনোদন, ফিচার, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, চলচ্চিত্র, ঢালিউড, বলিউড, হলিউড, বাংলা গান, মঞ্চ, টেলিভিশন, নকশা, ছুটির দিনে, আনন্দ, অন্য আলো, সাহিত্য, বন্ধুসভা,কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, অটোমোবাইল, মহাকাশ, গেমস, মাল্টিমিডিয়া, রাজনীতি, সরকার, অপরাধ, আইন ও বিচার, পরিবেশ, দুর্ঘটনা, সংসদ, রাজধানী, শেয়ার বাজার, বাণিজ্য, পোশাক শিল্প, ক্রিকেট, ফুটবল, লাইভ স্কোর, Editor, সম্পাদক, এ জেড এম মাইনুল ইসলাম পলাশ, A Z M Mainul Islam Palash, Brahmanbaria, Brahmanbaria Protidin, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিদিন, Bandarban, Bandarban Protidin, বান্দরবন, বান্দরবন প্রতিদিন, Barguna, Barguna Protidin, বরগুনা, বরগুনা প্রতিদিন, Barisal, Barisal Protidin, বরিশাল, বরিশাল প্রতিদিন, Bagerhat, Bagerhat Protidin, বাগেরহাট, বাগেরহাট প্রতিদিন, Bhola, Bhola Protidin, ভোলা, ভোলা প্রতিদিন, Bogra, Bogra Protidin, বগুড়া, বগুড়া প্রতিদিন, Chandpur, Chandpur Protidin, চাঁদপুর, চাঁদপুর প্রতিদিন, Chittagong, Chittagong Protidin, চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম প্রতিদিন, Chuadanga, Chuadanga Protidin, চুয়াডাঙ্গা, চুয়াডাঙ্গা প্রতিদিন, Comilla, Comilla Protidin, কুমিল্লা, কুমিল্লা প্রতিদিন, Cox's Bazar, Cox's Bazar Protidin, কক্সবাজার, কক্সবাজার প্রতিদিন, Dhaka, Dhaka Protidin, ঢাকা, ঢাকা প্রতিদিন, Dinajpur, Dinajpur Protidin, দিনাজপুর, দিনাজপুর প্রতিদিন, Faridpur , Faridpur Protidin, ফরিদপুর, ফরিদপুর প্রতিদিন, Feni, Feni Protidin, ফেনী, ফেনী প্রতিদিন, Gaibandha, Gaibandha Protidin, গাইবান্ধা, গাইবান্ধা প্রতিদিন, Gazipur, Gazipur Protidin, গাজীপুর, গাজীপুর প্রতিদিন, Gopalganj, Gopalganj Protidin, গোপালগঞ্জ, গোপালগঞ্জ প্রতিদিন, Habiganj, Habiganj Protidin, হবিগঞ্জ, হবিগঞ্জ প্রতিদিন, Jaipurhat, Jaipurhat Protidin, জয়পুরহাট, জয়পুরহাট প্রতিদিন, Jamalpur, Jamalpur Protidin, জামালপুর, জামালপুর প্রতিদিন, Jessore, Jessore Protidin, যশোর, যশোর প্রতিদিন, Jhalakathi, Jhalakathi Protidin, ঝালকাঠী, ঝালকাঠী প্রতিদিন, Jhinaidah, Jhinaidah Protidin, ঝিনাইদাহ, ঝিনাইদাহ প্রতিদিন, Khagrachari, Khagrachari Protidin, খাগড়াছড়ি, খাগড়াছড়ি প্রতিদিন, Khulna, Khulna Protidin, খুলনা, খুলনা প্রতিদিন, Kishoreganj, Kishoreganj Protidin, কিশোরগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ প্রতিদিন, Kurigram, Kurigram Protidin, কুড়িগ্রাম, কুড়িগ্রাম প্রতিদিন, Kushtia, Kushtia Protidin, কুষ্টিয়া, কুষ্টিয়া প্রতিদিন, Lakshmipur, Lakshmipur Protidin, লক্ষ্মীপুর, লক্ষ্মীপুর প্রতিদিন, Lalmonirhat, Lalmonirhat Protidin, লালমনিরহাট, লালমনিরহাট প্রতিদিন, Madaripur, Madaripur Protidin, মাদারীপুর, মাদারীপুর প্রতিদিন, Magura, Magura Protidin, মাগুরা, মাগুরা প্রতিদিন, Manikganj, Manikganj Protidin, মানিকগঞ্জ, মানিকগঞ্জ প্রতিদিন, Meherpur, Meherpur Protidin, মেহেরপুর, মেহেরপুর প্রতিদিন, Moulvibazar, Moulvibazar Protidin, মৌলভীবাজার, মৌলভীবাজার প্রতিদিন, Munshiganj, Munshiganj Protidin, মুন্সীগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ প্রতিদিন, Mymensingh, Mymensingh Protidin, ময়মনসিংহ, ময়মনসিংহ প্রতিদিন, Naogaon, Naogaon Protidin, নওগাঁ, নওগাঁ প্রতিদিন, Narayanganj, Narayanganj Protidin, নারায়ণগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ প্রতিদিন, Narsingdi, Narsingdi Protidin, নরসিংদী, নরসিংদী প্রতিদিন, Natore , Natore Protidin, নাটোর, নাটোর প্রতিদিন, Nawabgonj, Nawabgonj Protidin, নওয়াবগঞ্জ, নওয়াবগঞ্জ প্রতিদিন, Netrokona, Netrokona Protidin, নেত্রকোনা, নেত্রকোনা প্রতিদিন, Nilphamari, Nilphamari Protidin, নীলফামারী, নীলফামারী প্রতিদিন, Noakhali, Noakhali Protidin, নোয়াখালী, নোয়াখালী প্রতিদিন, Norai, Norai Protidin, নড়াইল, নড়াইল প্রতিদিন, Pabna, Pabna Protidin, পাবনা, পাবনা প্রতিদিন, Panchagarh, Panchagarh Protidin, পঞ্চগড়, পঞ্চগড় প্রতিদিন, Patuakhali, Patuakhali Protidin, পটুয়াখালী, পটুয়াখালী প্রতিদিন, Pirojpur, Pirojpur Protidin, পিরোজপুর, পিরোজপুর প্রতিদিন, Rajbari, Rajbari Protidin, রাজবাড়ী, রাজবাড়ী প্রতিদিন, Rajshahi , Rajshahi Protidin, রাজশাহী, রাজশাহী প্রতিদিন, Rangamati, Rangamati Protidin, রাঙ্গামাটি, রাঙ্গামাটি প্রতিদিন, Rangpur, Rangpur Protidin, রংপুর, রংপুর প্রতিদিন, Satkhira, Satkhira Protidin, সাতক্ষীরা, সাতক্ষীরা প্রতিদিন, Shariyatpur, Shariyatpur Protidin, শরীয়তপুর, শরীয়তপুর প্রতিদিন, Sherpur, Sherpur Protidin, শেরপুর, শেরপুর প্রতিদিন, Sirajgonj, Sirajgonj Protidin, সিরাজগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ প্রতিদিন, Sunamganj, Sunamganj Protidin, সুনামগঞ্জ, সুনামগঞ্জ প্রতিদিন, Sylhet, Sylhet Protidin, সিলেট, সিলেট প্রতিদিন, Tangail, Tangail Protidin, টাঙ্গাইল, টাঙ্গাইল প্রতিদিন, Thakurgaon, Thakurgaon Protidin, ঠাকুরগাঁও, ঠাকুরগাঁও প্রতিদিন, ক্রাইম প্রতিদিন, ক্রাইম, প্রতিদিন, Crime, Protidin, অপরাধ মুক্ত বাংলাদেশ চাই, অমুবাচা, crimeprotidin

দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান যমুনা গ্রুপ অবশেষে এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে ঘোষণা করেছে যে, ইভ্যালির সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। ওই প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো অর্থ বিনিয়োগও করবে না তারা। ইভ্যালি সম্পর্কে ভয়াবহ সব তথ্য জানার পর অবশেষে যমুনা গ্রুপ তড়িঘড়ি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলো। ইতিপূর্বে তারা ইভ্যালিতে এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে বলে জানিয়েছিলো। ওই সময় তারা আসলে বুঝতে পারেনি, কতটা ভয়াবহ রকমের অপকর্ম করেছে এই প্রতিষ্ঠানটি। যমুনা গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠানও এদের ফাঁদে পড়ে যাবার উপক্রম হয়েছিলো। 

শুধু ইভ্যালি নয়, ই-অরেঞ্জ, ধামাকা, আলেশা মার্ট প্রভৃতি ই-কমার্স এর নামে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে যাওয়া প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেরই মূল ব্যবসা হলো প্রতারণা। অবিশ্বাস্য কমমূল্যে পণ্য সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোক্তাদের কাছ থেকে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এই অর্থ আবার বিদেশে পাচার করছে। পণ্য সরবরাহের কথা বলে যেসব হাজার হাজার মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে তাদের মধ্যে মাত্র গুটিকয়েক গ্রাহক পণ্য পাচ্ছে। বাকিরা নিঃস্ব হয়ে হাহাকার করছে। কেউ কেউ ভিটেমাটি বিক্রি করেও এসব প্রতারক প্রতিষ্ঠানকে অর্থ দিয়েছে।  
ই-কমার্সের নামে এই প্রতারকার পুরো ব্যবসাটাকেই সাজিয়েছে প্রতারণার ফাঁদ হিসেবে। দেখা যাচ্ছে, একশ জন গ্রাহকের মধ্যে মাত্র দু’একজন গ্রাহককে পণ্য সরবরাহ করেছে। এবং সেটি সরবরাহ করা হয়েছে অবিশ্বাস্য কমমূল্যে, যাতে অন্যরা লোভে পড়ে পণ্যের জন্য অগ্রিম টাকা দেয়। এভাবে রাতারাতি হাজার হাজার মানুষের কাছ থেকে পণ্যের মূল্য বাবদ অগ্রিম অর্থ সংগ্রহ করেছে। শতকরা দু’চারজন গ্রাহক যাদেরকে পণ্য সরবরাহ করেছে সেগুলোও মূলত বাকিতে এনেছে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে। এভাবেই শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। 
সম্প্রতি ইভ্যালির প্রতারণাকে ফাঁস হওয়ার পর একের পর এক ভয়াবহ সব তথ্য আসতে শুরু করেছে। অবশেষে দেখা গেলো, একজন পুলিশ পরিদর্শক সেও ই-কমার্সের ব্যানারে ভয়াবহ প্রতারণা ব্যবসা চালিয়ে গেছে এতোদিন। সোহেল রানার নামের এই পুলিশ পরিদর্শক ইতিমধ্যে ভারত পালিয়েছে। সেখানকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়ে এখন রিমান্ডে আছে। ই-অরেঞ্জ নামক প্রতিষ্ঠানটির মূল কর্ণধার এই পুলিশ কর্মকর্তা। সে একাই ১১শ’ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন সাধারণ মানুষের কাছ থেকে, যার অধিকাংশই গরীব কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষ। 
ইভ্যালি নিয়ে ইতিমধ্যে অনেক ঘটনা ঘটে গেছে। এছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ২৫ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আরো ৯টি প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের তথ্য চেয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানের তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে সেগুলো হচ্ছে ধামাকা, ই অরেঞ্জ, সিরাজগঞ্জ শপ, আলাদিনের প্রদীপ, কিউকুম, বুম বুম, আদিয়ান মার্ট, নিড ডট কম ডট বিডি এবং আলেশা মার্ট।
 
চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘এই ৯ ডিজিটাল কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। একই সঙ্গে মার্চেন্টদের কাছ থেকে পণ্য নিয়ে মূল্য পরিশোধ না করারও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সর্বশেষ আর্থিক অবস্থা, ক্রেতা ও মার্চেন্টদের কাছে মোট দায়ের পরিমাণ জানা দরকার।’
ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, ধামাকা- প্রতিষ্ঠানগুলোর মূলত নিয়মনীতি মেনে ব্যবসা করার উদ্দেশ্য ছিলো না। এদের মূল উদ্দেশ্য মানুষকে ধোঁকা দেয়া। তাদের মূল বিনিয়োগ হলো, মিথ্যা প্রচারণা। অনেক বড় বড় লোভ দেখানো হয়। কিছু কর্মচারী রাখে তাদের একমাত্র কাজই হলো মিথ্যা বলা। একটি গ্রুপকে রাখে হটলাইনে সারাক্ষণ মিথ্যা কথা বলার জন্য। পণ্য ক্রয়ে কোনো অর্থ খরচ করেনি। বাকিতে পণ্য এনেছে। কিছু গ্রাহককে সেগুলো সরবরাহ করেছে।   

কোনো কোনো ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানকে সাইক্লোন অফার, ২০% থেকে ১৫০% পর্যন্ত ক্যাশব্যাক দেয়ার অবিশ্বাস্য অফার দিতে দেখা গেছে। অর্থাৎ ১০০% অফারে গ্রাহক যেমন পণ্য পাবেন, সেইসঙ্গে মূল টাকাও ফেরত পাবেন। এমন অবিশ্বাস্য অফার পেয়ে লাখ লাখ গ্রাহক ওই ই-কমার্স সাইটগুলোতে পণ্য অর্ডার করতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। এভাবে প্রথম প্রথম কিছু গ্রাহকের কাছে পণ্য সরবরাহ করলেও কয়েকদিনের মাথায় বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ নিয়ে যথাসময়ে পণ্য সরবরাহ না দেয়া, সেইসঙ্গে মার্চেন্টদের পাওনা পরিশোধ না করার অভিযোগের পাহাড় জমতে থাকে।
 
শুরুর দিকে কিছু ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অস্বভাবিক মূল্য ছাড় এবং এডভান্স পেমেন্ট অর্ডার নিয়ে যথাসময়ে গ্রাহকের হাতে পণ্য না পৌঁছানোর অভিযোগই ছিল মূল আলোচনা। কিন্তু সাম্প্রতিককালে বৃহৎ কয়েকটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্রাহকের শত শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ বেশ গুরুতর। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারের পক্ষ থেকে সঠিকভাবে মনিটরিংয়ের অভাব এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়ায় অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য থামছে না।   

ই-কমার্স অঙ্গনে খুব অল্প সময়ে উত্থান ইভ্যালির। কিন্তু বিশাল অফার, ছাড়ের ছড়াছড়ি আর ক্যাশব্যাকের আকর্ষণ দেখিয়ে ক্রেতা বাড়ানোর কৌশল নিয়ে অল্পদিনে সফল হলেও প্রতিষ্ঠানটি এখন গ্রাহক ভোগান্তির শীর্ষে অবস্থান করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২১ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইভ্যালির গ্রাহক ছিল ৪৪ লাখ ৮৫ হাজার। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির দেনা দাঁড়ায় ৪০৩ কোটি টাকায়। চলতি সম্পদ ছিল ৬৫ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এ ছাড়া পণ্যমূল্য বাবদ গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম ২১৪ কোটি টাকা নিয়েও পণ্য সরবরাহ করেনি ইভ্যালি। আবার যেসব কোম্পানির কাছ থেকে ইভ্যালি পণ্য কিনেছে, তাদের কাছেও এর বকেয়া পড়েছে ১৯০ কোটি টাকা। এমন প্রেক্ষাপটে গত ১৭ই জুলাই আদালত ইভ্যালির চেয়ারম্যান ও সিইও মো. রাসেলের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ইভ্যালির প্রতারণার বিষয়টি আলোচনায় এলে এরসঙ্গে আলেশা মার্ট, ই-অরেঞ্জ, ধামাকা শপিং, আলাদিনের প্রদীপ, বুম বুম, কিউকম, আদিয়ান মার্টসহ অন্তত ১০-১২টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ উঠে আসে। তখন থেকেই এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনসহ যাবতীয় কার্যক্রম নজরদারিতে রাখছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরই মধ্যে নতুন করে আলোচনায় আসে ই-অরেঞ্জ এবং ধামাকার কয়েকশ’ কোটি টাকার প্রতারণার বিষয়টি। ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ ওঠে। এছাড়া ধামাকা শপিং নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্রাহকের ৫৮৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি প্রতিষ্ঠানটির এমডিসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা বিদেশে পালিয়ে গেছেন বলে জানা যায়।

ইভ্যালির দেনা ছাড়িয়ে যাবে ১০ হাজার কোটি টাকা
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ১৫ জুলাই পর্যন্ত ইভ্যালি যে হিসাব দিয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে, প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহক ও মার্চেন্ট কোম্পানি মিলিয়ে মোট দায়ের পরিমাণ প্রায় ৮৪৩ কোটি টাকা। অথচ প্রতিষ্ঠানটির মূলধন মাত্র ১ কোটি টাকা।

তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যে হিসাব দিয়েছে সেটি প্রকৃত তথ্য নয়। ইভ্যালির প্রকৃতপক্ষে দায়-দেনা কত সেটি এখনো পরিষ্কার নয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, ইভ্যালির প্রকৃত দেনার পরিমাণ ১০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। বেপরোয়া ব্যবসার কারণে এই প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম শুরুর দেড় বছরের মাথায় ছয় হাজার কোটি টাকা দেনার মুখোমুখি হয়। এর পর গত এক বছরে তাদের সর্বমোট দেনা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি। ব্যক্তিস্বার্থ ও অর্থ সাশ্রয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়াই এ প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। ইভ্যালি-সংশ্নিষ্ট গোপন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

গত আড়াই বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি ই-কমার্সভিত্তিক ব্যবসা পরিচালনা করছে। এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানের কর্ণধাররা দামি ব্র্যান্ডের রেঞ্জ রোভার, পোরশে’, অডি গাড়ি চালাচ্ছেন। বিলাসী তাদের জীবনযাপন। প্রতারণার মাধ্যমে মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে তারা অর্থ-সম্পদ গড়ে তুলেছেন। তাদের বিরুদ্ধে দুবাইতে অর্থ পাচারের অভিযোগও রয়েছে। ইভ্যালির এমডি ও সিইও মো. রাসেল এবং তার স্ত্রী প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন একে পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছেন।

ইভ্যালি ই-কমার্স ব্যবসার জন্য নিবন্ধন গ্রহণ করে ২০১৮ সালের ১৪ মে। আনুষ্ঠানিক ব্যবসা শুরু করে একই বছরের ডিসেম্বরে। শুরুতেই তারা নানা ধরনের পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে আকর্ষণীয় অফার দিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গ্রাহদের আকৃষ্ট করে। বাজারের চেয়ে অস্বাভাবিক কম মূল্যে পণ্য বিক্রির একের পর এক অফার দিতে থাকে তারা। কিছু গ্রাহককে বড় অংকের ডিসকাউন্ট দিয়ে পণ্য সরবরাহ করে প্রচার চালানো হতো। দু’শ থেকে তিনশ পার্সেন্ট ডিসকাউন্ট অফারও ছিল তাদের। এ ধরনের অফারে গ্রাহক বিনামূল্যে অতিরিক্ত পণ্যও পেয়েছে। এতে গ্রাহক সাধারণের মধ্যে ইভ্যালির পণ্য কেনার ক্ষেত্রে দারুণ মোহ সৃষ্টি হয়। কম দামে আগে পণ্য কেনার জন্য হুমড়ি খেয়ে বুকিং দিয়েছেন গ্রাহকরা।

ইভ্যালির ব্যবসায় জড়িত একটি সূত্র জানায়, মোটরসাইকেল বিক্রির অফারে এক হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে একশ জনের মধ্যে সরবরাহ করা হতো। বাকি ৯০০ গ্রাহককে দিই-দিচ্ছি বলে সময় ক্ষেপণ করা হতো। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, ওই এক হাজার জনের কাছ থেকে ইভ্যালি দুই লাখ টাকা মূল্যের প্রতিটি বাইকের দাম নিয়েছে এক লাখ টাকা। তাতে এক হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে আদায় হয় ১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যবসার কৌশল হিসেবে একশ গ্রাহককে বাইক সরবরাহ করা হয়। এই হিসাব অনুযায়ী একশ বাইকের দাম হয় এক কোটি ৮০ লাখ টাকা। বাকি ৯০০ গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া ৮ কোটি ২০ লাখ টাকা ইভ্যালির অ্যাকাউন্টে থেকে যেত। ইভ্যালির কর্ণধারদের আখের গোছাতে ভোগ-বিলাসে খরচ করা হতো এই টাকা।
এর পর আরও আকর্ষণীয় অফার প্রচার করা হতো। এ অফার থেকে একইভাবে গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া হতো মোটা অংকের টাকা। এ অফার থেকে কোটি কোটি টাকা আদায় করে আগের অফারে বঞ্চিত খুবই সামান্যসংখ্যক গ্রাকককে পণ্য দেওয়া হতো। চলমান অফারে বঞ্চিত হতো সিংহভাগ গ্রাহক। এভাবেই গ্রাহককে বঞ্চিত করে অর্থের পাহাড় গড়ে তুলেছেন ইভ্যালির কর্ণধাররা। বর্তমানে ইভ্যালির গ্রাহকসংখ্যা কম-বেশি ৭০ লাখ বলে জানা গেছে।

ইভ্যালি-সংশ্নিষ্ট একটি সূত্র জানায়, গত বছর জুলাইতে এ প্রতিষ্ঠানের দেনার পরিমাণ ছিল ছয় হাজার কোটি টাকা। বর্তমান সময়ে এই দেনা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকায়। ইভ্যালির বিরুদ্ধে গ্রাহক প্রতারণার প্রথম অভিযোগ করেন অ্যামাজন বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান আমান উল্লাহ চৌধুরী। তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ ব্যাংক, এনএসআইসহ সরকারের সাতটি প্রতিষ্ঠানে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছিলেন। এর পরই বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক ইভ্যালির ওপর নজরদারি শুরু করে। আলাদা তদন্তে তারা গ্রাহক প্রতারণা ও গ্রাহকের অর্থ তছরুপের প্রমাণ পায়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত বছরের শেষদিকে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন দুদকে পাঠায়। দুদক তখন অভিযোগটির প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করে। পরে মন্ত্রণালয় গত ৭ জুলাই আরেকটি তদন্ত প্রতিবেদন পাঠায় দুদকে। এর পর দুদক অভিযোগটির অনুসন্ধান জোরদার করে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেও ইভ্যালির প্রতারণা সংক্রান্ত কিছু নথি দুদকে পাঠানো হয়।

গ্রাহক প্রতারণার দায়ে বাংলাদেশ ব্যাংক গত বছর আগস্টে ইভ্যালির ব্যাংক লেনদেন বন্ধ করে দেয়। পরে ইভ্যালির কর্ণধাররা নানা পর্যায়ে তদবির করে শর্তসাপেক্ষে ব্যাংক লেনদেন চালুর ব্যবস্থা করেন। এ শর্তে গ্রাহকদের জন্য অস্বাভাবিক অফার না দেওয়াসহ অন্যান্য শর্ত ছিল।
 
ই-অরেঞ্জ: ১১শ’ কোটি টাকা লোপাট, ছাড়ের অফারেও প্রতারণার আশ্রয়
মাত্র ১৫ দিনেই এক লাখে মিলবে দুই লাখ টাকা। এমন লোভনীয় অফারের টোপে ফেলে হাজার কোটি টাকার বেশি লোপাট করেছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জ। শুধু তাই নয় একশো টাকার পণ্যে ৭০ টাকা ছাড়ের অফার দিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নিতো তারা। প্রতিষ্ঠানটির মালিকদের প্রায় সবাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছে। ই-অরেঞ্জের অন্যতম মালিক বনানী থানার পুলিশ পরিদর্শক সোহেল রানাও ভারতে পালাতে গিয়ে বিএসএফ এর হাতে ধরা পড়েছেন।

ক্রিকেট তারকা ও সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজার বিজ্ঞাপনকে পুঁজি করে খুব অল্প সময়ে গ্রাহকের নজর কাড়ে ই-অরেঞ্জ। সঙ্গে ছিলো ভাউচার ক্রয়ে দ্বিগুণ অর্থ ফেরত ও কম দামে পণ্য দেয়ার লোভনীয় অফারের টোপ। আর তাতেই ঝাঁপিয়ে পড়েন গ্রাহকরা। ভুক্তভোগীদের দাবি, ই-ভ্যালি ও ধামাকার প্রতারণা জানার পরও, মাশরাফির বিজ্ঞাপন দেখেই ই-অরেঞ্জকে বিশ্বাস করেছিলেন তারা।

এদিকে, এগারোশ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক সোনিয়া মেহজাবিন ও তার স্বামী মাসুকুর রহমান ও চিফ ওপারেটিং অফিসার আমান উল্লাহকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সর্বশেষ ৪ সেপ্টেম্বর ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী-বিএসএফ এর হাতে ধরা পড়েন ই-অরেঞ্জের অন্যতম মালিক বনানী থানার পুলিশ পরিদর্শক সোহেল রানা।

এমন বাস্তবতায় গ্রাহকদের ই-অরেঞ্জ থেকে অর্থ ফেরত পাওয়া এখন অনেকটাই অনিশ্চিত। কোন উপায় না দেখে গেল ১৬ই আগস্ট মাশরাফির বাসার সামনে অবস্থান নেয় ভুক্তভোগীরা। মালিকদের বিরুদ্ধে মামলা করেন গুলশান থানায় তারা।

ই-অরেঞ্জের টাকা গেল কোথায়?
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির দুটি ব্যাংকে মাত্র ৩ কোটি ১২ লাখ ১৪ হাজার ৩৫৬ টাকা জমা থাকলেও গ্রাহকরা ১,১০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে থানায় মামলা করেছে। গ্রাহকদের প্রায় ১ হাজার ৯৭ কোটি টাকা গেল কোথায়?

জানা গেছে, ই-অরেঞ্জ প্রতিষ্ঠানটির দুটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এরমধ্যে ব্র্যাক ব্যাংকে এখন ২ কোটি ৮৯ লাখ ৬৫ হাজার ৬১৯ টাকা এবং সিটি ব্যাংকে ২২ লাখ ৪৮ হাজার ৭৩৭ টাকা জমা আছে। সিটি ব্যাংকে ই-অরেঞ্জের হিসাবে চলতি বছরের ২০ জুলাইয়ে ৬২০ কোটি ৬৭ লাখ ২০ হাজার ৭২৯ টাকা জমা পড়ে। এর মধ্যে ৬২০ কোটি ৪৪ লাখ ৭১ হাজার ৯৯২ টাকা উত্তোলন করা হয়। এখন ২২ লাখ ৪৮ হাজার ৭৩৭ টাকা সিটি ব্যাংক হিসাবে জমা রয়েছে।

অন্যদিকে আরেকটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্র্যাক ব্যাংকে খোলা হয়। সেখানে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ১ হাজার টাকা জমা থাকলেও ৩০ জুন পর্যন্ত ৩৯১ কোটি ৬৭ লাখ ৬১ হাজার ৮৭৯ টাকা জমা পড়ে। এরমধ্যে ৩৮৮ কোটি ৭৭ লাখ ৯৬ হাজার ২৫৯ টাকা উত্তোলন করা হয়। এখন ২ কোটি ৮৯ লাখ ৬৫ হাজার ৬১৯ টাকা জমা রয়েছে।
 
ই-অরেঞ্জের মালিকানা বদলের ধোঁকা!
ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠার পরই মালিক সোনিয়া মেহজাবিন নিজস্ব লোকের মাধ্যমে মালিকানা বদল করে সবার চোখে ধুলা দিতে চেয়েছেন। এক হাজার ১০০ কোটি টাকার প্রতারণার মামলায় আদালতে হাজির হয়ে সোনিয়া ও তাঁর স্বামী দাবি করেন, তাঁরা এখন প্রতিষ্ঠানটির মালিক নন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি এই মালিকানা বদল হয়েছে।

তবে নির্ভরযোগ্য সূত্র ও নথিপত্র থেকে জানা গেছে, ই-অরেঞ্জ নিয়ে সমালোচনা শুরুর পর গত ১৯ জুলাই এই মালিকানা বদলের ‘নাটক’ সাজানো হয়েছে। নাজনিন নাহার বিথি নামে যাঁর সঙ্গে মালিকানা বদল করা হয়েছে তিনি সোনিয়ার আপন ভাই ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ সোহেল রানার ঘনিষ্ঠ। বনানী থানায় কর্মরত সোহেল রানার সহযোগিতায় এত দিন সোনিয়াসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা। ই-অরেঞ্জের কোটি টাকা তিনি ব্যাংক থেকে তুলেছেন।

রাজধানীর গুলশান ১ নম্বরের ১৩৭ নম্বর রোডে ই-অরেঞ্জের বন্ধ অফিস ঘেরাও করার পর এক লাখ ভুক্তভোগীর এক হাজার ১০০ কোটি টাকা প্রতারণামূলকভাবে আত্মসাতের অভিযোগে গুলশান থানায় মামলা করেছেন তাহেরুল ইসলাম নামের এক ভুক্তভোগী। এজাহারে অভিযোগে বলা হয়, গত ২৮ এপ্রিল থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের পণ্য কেনার জন্য টাকা দেওয়া হয়, যা একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের পর ই-অরেঞ্জ কোম্পানির ডেলিভারি দেওয়ার কথা ছিল। বারবার নোটিশের নামে ভুক্তভোগীদের পণ্য ডেলিভারি না করে প্রতারণা করে যাচ্ছে। আসামিরা হলেন ই-অরেঞ্জের মালিক সোনিয়া মেহজাবিন ও তাঁর স্বামী মাসুকুর রহমান, কর্মকর্তা আমান উল্লাহ, বিথী আক্তার, কাওসারসহ ই-অরেঞ্জের সব মালিক। অভিযোগে বলা হয়, করোনাকালীন ভুক্তভোগীদের কষ্টার্জিত অর্থের নিশ্চয়তা না দিয়ে ই-অরেঞ্জ তাদের মালিকানা পরিবর্তনের নামে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করছে। নতুন মালিক ও পুরাতন মালিকের কোনো তথ্য ভুক্তভোগীদের সামনে প্রকাশ করা হচ্ছে না। আসামিরা সব ধরনের অফিশিয়াল কার্যক্রম বন্ধ করে গাঢাকা দিয়েছেন।

ই-অরেঞ্জের গ্রাহকদের কাছে থাকা নোটিশের স্ক্রিনশটে দেখা গেছে, ই-অরেঞ্জের লেনদেনে সোনিয়া মেহজাবিনের সিটি ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে ব্যবহার করা হয়েছে তাঁর নামেরই একটি ই-মেইল ঠিকানা। চতুর সোনিয়া মেহজাবিন চলতি বছরের এক জানুয়ারি তাঁর প্রতিষ্ঠানের মালিকানা বদল করেছে বলে দাবি করেছেন। তবে মালিকানা পরিবর্তনের ট্রেড লাইসেন্সের সংশোধনীতে দেখা গেছে, গত ১৯ জুলাই পরিবর্তন করা হয়েছে সেই মালিকানা। তত দিনে ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।

সূত্র জানায়, বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ সোহেল রানা সোনিয়ার আপন ভাই। জাতীয় পরিচয়পত্রে দেখা গেছে, সোহেল রানার বাবার নাম শেখ আ. সালাম। ২০১৯ সালের ৩০ জুলাই করা সোনিয়ার ট্রেড লাইসেন্সেও বাবার নাম একই দেওয়া হয়েছে। সোনিয়া তাঁর লাইসেন্সে মায়ের নাম নাজমা সালাম দিয়েছেন। সোহেলের জাতীয় পরিচয়পত্রে মায়ের নাম নাজমা বেগম। নাজনিন নাহার বিথি বর্তমান মালিক হওয়ার আগে থেকেই সোহেলের ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে সূত্র জানিয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তা ভাইয়ের সহযোগিতায় প্রতারণার অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার জন্য কৌশলে মালিকানা বদল করেন সোনিয়া। পুলিশ পরিদর্শক সোহেল তাঁর বোনের ই-অরেঞ্জের টাকা সরিয়েছেন এমন ব্যাংক লেনদেনের হিসাবও সংগ্রহ করেছেন কয়েকজন গ্রাহক। এসব তথ্য ও প্রমাণ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ছে। সোহেল ছাড়াও সোনিয়ার স্বামী বিকাশের কর্মকর্তা মাসুকুর রহমান ও সিওও আমান উল্লাহ এই কাজে সহায়তা করেন।
 
গ্রাহকের ৫৮৯ কোটি টাকা হাতিয়ে লাপাত্তা ধামাকা
অনলাইন প্ল্যাটফরম ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে অন্তত ৫৮৯ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ধামাকা শপিং নামের একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান। চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন ও আকর্ষণীয় ছাড়ে পণ্য বিক্রির ফাঁদ তৈরি করে প্রতিষ্ঠানটি এ অর্থ আত্মসাৎ করে। এর পর অফিস বন্ধ করে লাপাত্তা। আমাদের সময়ের অনুসন্ধান বলছে, কোম্পানিটির মূল মালিক ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) জসিমউদ্দিন চিশতি পাড়ি জমিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে। পালিয়েছেন পরিচালনা পর্ষদের বেশিরভাগ সদস্যও। প্রতারণার মাধ্যম হিসেবে ধামাকা শপিংয়ের নাম ব্যবহার করলেও প্রতিষ্ঠানটির নামে ছিল না কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। প্রতিষ্ঠানটির এমডি এ কাজে ব্যবহার করেছেন ইনভেরিয়েন্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিপুল অঙ্কের টাকা লেনদেন করলেও বর্তমানে ওই অ্যাকাউন্টে আছে মাত্র ৯৩ হাজার টাকা। ব্যক্তিগত ও কোম্পানিসংশ্লিষ্ট অন্য অ্যাকাউন্টগুলোতেও টাকা নেই।

রাজধানীর মহাখালীর বীরউত্তম একে খন্দকার সড়কের একোয়া টাওয়ারে দুটি ফ্লোরে ধামাকা শপিংয়ের দৃষ্টিনন্দন অফিস। তবে কোম্পানিটির এমডি জসিমউদ্দিন চিশতি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর পর থেকেই বন্ধ রয়েছে অফিসটি। প্রথমদিকে হোম অফিসের কথা বলা হলেও বর্তমানে কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ। এমনকি বন্ধ রয়েছে কাস্টমার কেয়ার সেন্টারের ফোন নম্বরও। ধামাকা শপিংয়ের ফেসবুক পেজে এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, অনিবার্য কারণে কাস্টমার কেয়ারের ফোন নম্বরটিও বন্ধ করা হয়েছে। তবে শপিং প্ল্যাটফরমটির কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও প্রতিসপ্তাহেই ফেসবুক লাইভে এসে গ্রাহকদের নানারকম আশ্বাস দেন কোম্পানির এমডি।

চাকরি হারানো কোম্পানিটির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ধামাকা শপিং অন্তত চার মাস আগেই স্থায়ীভাবে ব্যবসা বন্ধ করেছে। এখন কেবল গ্রাহকদের আশ্বাস দিয়ে রাখছে, যাতে তারা টাকা ফেরত পেতে আন্দোলন না করেন। তিনি বলেন, মালিকপক্ষের দেশে তেমন কোনো বিনিয়োগ নেই। সব টাকা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। পরিচালকরাও দেশ ছেড়েছেন।ধামাকার বিজনেস অ্যাকাউন্ট নেই। 

অনুসন্ধানে জানা যায়, শত শত কোটি টাকার ব্যবসা করলেও ধামাকা শপিংয়ের কোনো সরকারি নিবন্ধন নেই। ইনভেরিয়েন্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানের সাউথ ইস্ট ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে লেনদেন হতো। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সর্বশেষ জুন মাস পর্যন্ত এ অ্যাকাউন্টে লেনদেন হয়। তখন পর্যন্ত এ অ্যাকাউন্টে লেনদেনের পরিমাণ ৫৮৮ কোটি ৯১ লাখ ৫ হাজার ৮৫২ টাকা। তবে এ বিপুল পরিমাণ লেনদেন হলেও বর্তমানে অ্যাকাউন্টটিতে রয়েছে মাত্র ৯৩ হাজার ৭৩১ টাকা। এদিকে অপরাধ তদন্ত সংস্থা (সিআইডি) ধামাকা শপিংয়ের অর্থ আত্মসাৎ নিয়ে অনুসন্ধানে নেমেছে।

সিআইডি থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, ধামাকা শপিং থেকে প্রতিষ্ঠানের অর্থ ওই প্রতিষ্ঠানের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা টাকা স্থানান্তর করে আত্মসাৎ করেছেন।

১৪ ই-কমার্সের বিষয়ে তদন্তে সিআইডি
ডাবল ভাউচার, সিগনেচার কার্ড ও বিগ বিলিয়ন রিটার্নস- এ রকম চটকদার অফারে অস্বাভাবিক মূল্যছাড়ের ফাঁদে ফেলে হাজার হাজার গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করছে কিছু ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বাস্তবে এদের কেউ কেউ মাত্র ১০ শতাংশ গ্রাহকের অর্ডার করা পণ্য সরবরাহ করে, বাকি গ্রাহকের পণ্য সরবরাহে গড়িমসি করে টাকা আত্মসাৎ করে। আবার কেউ কেউ ই-কমার্সের নামে নিষিদ্ধ এমএলএম ব্যবসা চালাচ্ছে।

গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের পর প্রতিষ্ঠানের মালিকদের কেউ কেউ দেশত্যাগ করছেন, বিদেশে পাচার করছেন বিপুল পরিমাণ অর্থ। ইভ্যালি ও ই-অরেঞ্জসহ আলোচিত ১৪টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে তদন্ত করে এমন অভিযোগ পেয়েছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এই ইউনিটের সাইবার পুলিশ সেন্টার মামলার পাশাপাশি সাইবার অপরাধ হিসেবে ই-কমার্স সাইটে নজরদারি শুরু করেছে। ধামাকা শপিং ডটকম নামের একটি প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে ৫০ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে বলেও তথ্য পেয়েছে সিআইডি। সর্বশেষ ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে গতকাল মঙ্গলবার এক হাজার ১০০ কোটি টাকা প্রতারণার মামলা করেছেন ভুক্তভোগী এক গ্রাহক। সাইবার তদন্তকারীরা বলছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে কয়েকটি ছোট প্রতিষ্ঠানের কর্তাদের গ্রেপ্তারের পর ই-কমার্সের প্রতারণা সামনে আসতে থাকে। বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও শত শত গ্রাহক অভিযোগ করছেন। এ কারণে নজরদারির আওতায় নেওয়া হয়েছে ১৪টি প্রতিষ্ঠান। এগুলো হলো- ইভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, সিরাজগঞ্জ শপ, ধামাকা শপিং ডটকম, নিরাপদ ডটকম, আলাদিনের প্রদীপ, আলেশা মার্ট, কিউ-ডটকম, বুমবুম, আদিয়ান মার্ট, নিডস, দালাল, এসকে ট্রেডার্স ও মোটরস। এরই মধ্যে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি), ব্র্যাক ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া ও ঢাকা ব্যাংক ১০টি প্রতিষ্ঠানে অনলাইন মার্চেন্টে ক্রেডিট, ডেবিট ও প্রি-পেইড কার্ডের লেনদেন স্থগিত করেছে। এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- ইভ্যালি, আলেশা মার্ট, ই-অরেঞ্জ, ধামাকা শপিং, সিরাজগঞ্জ শপিং, আলাদিনের প্রদীপ, বুমবুম, কিউকম, আদিয়ান মার্ট ও নিডস ডটকম বিডি।

এরই মধ্যে তথ্য মিলেছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের টাকা নির্দিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যাচ্ছে না। পণ্য বিক্রির টাকা সরাসরি চলে যাচ্ছে বিভিন্ন বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টে। ধামাকা শপিং ডটকম গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম নেওয়া ৫০ কোটি টাকা অন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নিয়ে পাচার করেছে। অগ্রিম টাকা ‘ইনভ্যারিয়েন্ট টেলিকম’ নামে খোলা একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করেছে ধামাকা। সেখানে আট মাসে ৫৮৮ কোটি টাকা লেনদেন হলেও বর্তমানে রয়েছে মাত্র ৯৩ হাজার টাকা। এটিসহ সংশ্লিষ্ট ১৪টি ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে, যার মধ্যে এমডি জসীম উদ্দিনের পাঁচটি, ইনভ্যারিয়েন্ট টেলিকমের সাতটি, মাইক্রো ট্রেডের একটি ও মাইক্রো ফুড অ্যান্ড বেভারেজের একটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। জসীম উদ্দিন বিদেশে থাকায় জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়নি। তাঁকে বেশ কয়েকবার ডাকা হলেও ‘করোনার কারণে দেশে ফিরতে পারছেন না’ জানিয়ে এড়িয়ে গেছেন তিনি। ধামাকার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের আলাদা মামলা হবে। ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন ও এমডি মো. রাসেলের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।

এর আগে ১২ জুলাই নিরাপদ ডটকম নামের প্রতিষ্ঠানের পরিচালক শাহরিয়ার খানকে গ্রেপ্তার করে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ। এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অর্ধেক দামে পণ্য বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগ পেয়েছে সিআইডিও। ডিবির উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘কিছু গ্রাহককে পণ্য দিয়ে সেটির রিভিউ দেখিয়ে প্রতারণা করে নিরাপদের শাহরিয়ার খান।’ আদিয়ান মার্ট থেকে পণ্য কিনতে অর্ডার দিয়ে প্রতারণার অভিযোগ করেছেন বেশ কয়েকজন গ্রাহক। সূত্র মতে, অভিযোগ পাওয়ায় ১৪টি প্রতিষ্ঠানের লেনদেন খতিয়ে দেখছেন সিআইডির তদন্তকারীরা।

 
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ