আদালত সরকারের ইচ্ছায় চলে, পিরোজপুরের ঘটনাই প্রমাণ : মওদুদ

  • ক্রাইম প্রতিদিন ডেস্ক
  • ২০২০-০৩-০৬ ২৩:০৪:৩০
image

আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে বিএনপি সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

তিনি বলেন, সরকারের ইচ্ছা ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তি কোনোদিন হবে না। সরকার ইচ্ছা করলে আদালত তাকে জামিন দিয়ে দেবে। কারণ আদালত এখন আর স্বাধীন নেই, সরকারের ইচ্ছায় চলে। পিরোজপুরের ঘটনা তাই প্রমাণ করে।

রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে শুক্রবার এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘নাগরিক অধিকার, ন্যায়বিচার এবং খালেদা জিয়ার মুক্তি’ শীর্ষক সভার আয়োজন করে স্বাধীনতা ফোরাম।

মওদুদ আহমদ বলেন, এখন বিকল্প হল আন্দোলন। আমি বিশ্বাস করি, আন্দোলন হবে। কেননা বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রপ্রিয়, স্বাধীনতাপ্রিয়। সব গণতান্ত্রিক, দেশপ্রেমিক, রাজনীতিক ও সামাজিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকারের পতন ঘটাতে হবে।

দুদকের এক মামলায় পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক এমপি ও তার স্ত্রীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়ার পর জেলা ও দায়রা জজ আবদুল মান্নানকে প্রত্যাহার করে নেয়ার ঘটনা উল্লেখ করে মওদুদ আহমদ বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা চলে যাওয়ার পর গত ১১ ডিসেম্বর প্রকাশিত গেজেটে নিম্ন আদালতকে প্রশাসনের অধীনে করা হয়েছে। একেবারে লিখিতভাবে আইন করে। এখন নিম্ন আদালত প্রশাসনের অধীনে অর্থাৎ রাজনৈতিক ইচ্ছায় চলে।

বিএনপির এই নেতা আক্ষেপ করে বলেন, আমার কাছে সবচেয়ে বেদনার ১১ বছরে একটা রায়েও উচ্চ আদালত বা নিম্ন আদালত থেকে আমাদের দ্বিতীয় শ্রেণির কোনো নেতা রিলিফ পায়নি।

সভায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, আইন ও বিচার বিভাগ দুটোই নিহত, আমরা আহত। কোর্টে গিয়ে দেন-দরবার করে খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না। রাষ্ট্র আর রাষ্ট্র নেই। রাষ্ট্র ও জনগণ এখন প্রশাসনিক বিভাগের অধীনে। সংবিধান বহাল রেখে সামরিক শাসন জারি করেছিল মোশতাক, আর বর্তমান সরকার সংবিধান বহাল রেখে অলিখিত সামরিক শাসন জারি করেছে।

সরকারের উদ্দেশে জেএসডি সভাপতি বলেন, জনগণ প্রস্তুত হয়ে আছে। কিন্তু নেতৃত্বের সংকট। বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ছেলেটি মারা গেছে, তার জানাজায় এক লাখ লোক হয়েছে। এটা একটা মেসেজ। আপনি যতই উন্নয়নের কথা বলেন না কেন, মানুষের মন ভোলাতে পারবেন না। জনগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তারা ভোট কেন্দ্রে যাবে না। ভোট কেন্দ্রে না গেলে সরকার পরিবর্তনের উপায় কী? জনগণ বলছে, আপনারা রাজনৈতিক নেতারা সিদ্ধান্ত নেন, আমরা প্রস্তুত আছি।

বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা রাস্তায় নামেন, আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। বাংলাদেশের বুকে আর যেন এ রকম কোনো স্বৈরশাসক না আসে সেই ব্যবস্থা করেন। শুধু এই সরকার বদলালে হবে না। শাসন পদ্ধতিও বদলাতে হবে। এই ধরনের ফ্যাসিস্ট কর্তৃত্ববাদী সরকার যেন আর কোনোদিন ক্ষমতায় আসতে না পারে।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমতুল্লাহর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণফোরামের অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা প্রমুখ।

 
এ জাতীয় আরো খবর