প্রধানমন্ত্রী দয়া করলেই কেবল খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন : মওদুদ

  • ক্রাইম প্রতিদিন ডেস্ক
  • ২০২০-০৩-১৪ ২৩:৪৭:২৩
image

দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সরকারের ‘আনুকূল্য’ নিতেও রাজি আছে বিএনপি। দলটি এ জন্য যেকোনো ছাড় দিতেও প্রস্তুত। কারণ স্বাস্থ্যগত কারণে খালেদা জিয়া নিজেই এখন কারাগার থেকে বের হতে চাইছেন।

জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘দলীয় চেয়ারপারসনের মুক্তির জন্য আমরা এখন প্রধানমন্ত্রীর দয়ার ওপর নির্ভর করে বসে আছি। তিনি দয়া ও করুণা করলেই কেবল খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই প্রবীণ নেতা বলেন, ‘আইনি পন্থার বাইরে আবেদন করার অর্থই হলো সরকারের আনুকূল্য চাওয়া। প্রধানমন্ত্রী নিজেও বুঝতে পারছেন যে আন্দোলন করে আমরা আর দলীয় চেয়ারপারসনকে মুক্ত করতে পারব না। ফলে আনুকূল্য ছাড়া আর উপায় কী? বরং আরো আগে চাইলে ভালো হতো।’

গত বছর মে মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লন্ডন সফরকালে স্থানীয় বিএনপির বিক্ষোভসহ নানা তৎপরতায় খালেদা জিয়ার কারামুক্তি দেরি হয়েছে বলে বিএনপি নেতারা মনে করছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলটির স্থায়ী কমিটির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, ওই সময় লন্ডনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘বিরক্ত’ না করা হলে খালেদা জিয়া কারাগার থেকে বের হয়ে যেতেন। দলের পক্ষ থেকে নেওয়া একটি উদ্যোগে সরকারও ওই সময় তাঁকে মুক্তি দিতে রাজি হয়েছিল বলে ওই নেতারা দাবি করেন। তাঁরা জানান, কারামুক্ত হয়ে খালেদা জিয়া প্রথমে বাসায় এবং পরে লন্ডনে যাবেন— এমনটি সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু তারেক রহমানের সমর্থকরা লন্ডনে নানাভাবে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের ‘উত্ত্যক্ত’ করায় ওই উদ্যোগ ভেস্তে যায়।

ওই সময় লন্ডনে বিক্ষোভ প্রদর্শন ছাড়াও স্থানীয় বিএনপি নানাভাবে শেখ হাসিনা ও তাঁর সফরসঙ্গীদের ‘বিরক্ত’ করেছে বলে আলোচনা ওঠে। ওই ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছেন, যা তাঁর একটি বক্তৃতায় উঠে এসেছে। ফলে বিএনপির পক্ষ থেকে নেওয়া একটি উদ্যোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক গুঞ্জন সত্ত্বেও ওই সময় খালেদা জিয়া মুক্ত হননি। উপরন্তু প্রধানমন্ত্রীর লন্ডন থেকে ফেরার এক দিন পরে খালেদা জিয়ার মামলার জন্য কেরানীগঞ্জে সংশ্লিষ্ট আদালত স্থানান্তর করা হয়। থেমে যায় খালেদা জিয়ার মুক্তি আলোচনাও।

সূত্র জানায়, এসব কারণে বিএনপি ও খালেদা জিয়ার পরিবার; দুই দিক থেকেই এবার বেশ সতর্কতার সঙ্গে বিষয়টি ‘হ্যান্ডল’ করা হচ্ছে। খালেদা জিয়ার সাময়িক মুক্তির জন্য গত ৪ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করলেও তাঁর ভাই শামীম এস্কান্দার এ নিয়ে মুখ খোলেননি। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়সহ সরকারের পক্ষ থেকেও বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছে। আবেদনের কপি এ পর্যন্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত না হওয়ায় সরকারের ওপর বিএনপি এবার সন্তুষ্ট বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে। এর আগে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ফোনালাপ ফাঁস হওয়ায় বিএনপি ক্ষুব্ধ ছিল বলে জানা যায়।

নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো থেকে জানা যাচ্ছে, খালেদা জিয়ার কারামুক্তির জন্য পরিবারের পাশাপাশি দলগতভাবে বিএনপিও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন মাধ্যমে তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলছে। তবে বিএনপি নেতারা মনে করেন, সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সবুজ সংকেত পাওয়া গেলেই কেবল এ প্রশ্নে অগ্রগতি হবে।

জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বৃহস্পতিবার বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে আমরা চেষ্টা করছি। আমি রায়ের কপিটা চেয়েছি। হাইকোর্ট কী বলেছেন সেটি দেখে মতামত দেব।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের মতামত ছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে তারা (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) আমার মতামত চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছে।’

অগ্রগতি নেই জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘মতামতের জন্য আবেদন আমরা আইনমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। মতামত এলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘শুধু পরিবার নয়; বিএনপির কাছেও দলীয় চেয়ারপারসনের জীবন এই মুহূর্তে সবচেয়ে মূল্যবান। ফলে স্বাস্থ্যগত কারণে আমরা তাঁর মুক্তি চাই।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার সঙ্গে অন্য কোনো রাজনীতি বা দরকষাকষির বিষয় জড়িত থাকা উচিত নয়। তিনি (খালেদা জিয়া) তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। আমরা আশা করব, সরকার তাঁর প্রতি যথাযথ সম্মান দেখাবে।’

খালেদা জিয়ার আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনের মতে, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি মানবিক মূল্যবোধের দৃষ্টিতে বিচার করা উচিত সরকারের। এখানে দয়া ও ক্ষমার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ উনি তো ক্ষমা চাচ্ছেন না।’ বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘মামলা স্থগিত করে সরকার প্রশাসনিক আদেশে তাঁকে মুক্তি দিতে পারে। মামলা তো আর বাতিল হচ্ছে না।’

‘তবে বিষয়টি পুরোপুরি প্রধানমন্ত্রীর একক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তিনি সবুজ সংকেত দিলে হবে। না হলে কিছুই হবে না।’ বলেন, দেশের প্রবীণ এই আইনজীবী।

 
এ জাতীয় আরো খবর