অবশেষে পাওয়া গেল করোনার ওষুধ!

  • ক্রাইম প্রতিদিন ডেস্ক
  • ২০২০-০৫-০১ ১৫:৪৪:১১
image

পুরো পৃথিবীই দিশেহারা করোনা ভাইরাস। থমকে আছে পুরো মানবজাতির দৈনন্দিন কার্যক্রম। এর থেকে বেরি আসছে প্রয়োজন একটি কার্যকর ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক।

আর এই প্রতিষেধক তৈরিতেই বিশ্বজুড়ে চলছে প্রতিযোগিতা। ভ্যাকসিন আবিষ্কারের চেষ্টা করছেন সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীরা। কে আগে তৈরি করবেন এই প্রতিষেধক, চলছে প্রতিযোগিতা।

একেক গবেষক দল নিজের মতো করে সফল দাবি করছেন। এক্ষেত্রে এগিয়ে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা। বিজ্ঞানীরা বলছেন, তাদের আবিষ্কৃত ভ্যাকসিন বানরের শরীরে কার্যকর হয়েছে, এখন শুধু মানব দেহে প্রবেশের অপেক্ষায়। তারা খুবই আশাবাদী, আগামী সেপ্টেম্বরে বাজারে আসতে পারে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন।

তবে তাদের থেকেও একধাপ এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে একদল গবেষক। ঔষধটি ‘হয়তো’ পাওয়া গেছে- এমনটি দাবি করে আমেরিকান সরকারের সংক্রামক ব্যাধি বিষয়ক শীর্ষ বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউচি বলছেন, করোনা ভাইরাসের পরীক্ষমূলক চিকিৎসায় ট্রায়াল রান দিয়ে অর্থাৎ রোগীর ওপর পরীক্ষা চালিয়ে প্রাথমিক যে ফলাফল পাওয়া গেছে তাতে তিনি আশাবাদী।

যদিও জিলেড নামের একটি মার্কিন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি তাদের উৎপাদিত ওষুধ রেমডিসিভির নিয়ে এক বিবৃতি দিয়েছে, তবে কোন তথ্য-প্রমাণ দেয়নি।

বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস – এর চালানো এক পরীক্ষা বা ট্রায়াল রানের পর ‘ইতিবাচক উপাত্ত’ পাওয়া গেছে, এবং তাদের এই পরীক্ষা তাদের ‘প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জন করতে পেরেছে।’

তবে এটি যে একেবারে নতুন তা নয়, রেমডিসিভির হচ্ছে এমন একটি এ্যান্টি-ভাইরাল ওষুধ যা ইবোলা রোগের চিকিৎসার জন্য তৈরি হয়েছিল।

ওই বিবৃতির ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিবিসি‌র সাংবাদিক জেমস গ্যালাহার। তিনি বলেন, কঠিন মেডিক্যাল শব্দ বাদ দিয়ে সোজা কথায় বলা যায়, জিলেড জানাচ্ছে যে রেমডিসিভিরে কাজ হয়।‍ তবে আমরা যা জানি না, তা হলো কতটা ভালোভাবে এটা কাজ করে, এবং তাদের তথ্যপ্রমাণ কতটা জোরালো।

রেমডিসিভির যত আগে আগে দেয়া যায় ততই কার্যকর- এমনটি ইঙ্গিত দিয়ে কোম্পানি জিলেড বলছে, ‘আগেভাগেই চিকিৎসা দেয়া হয়েছে এমন শতকরা ৬২ ভাগ রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়া সম্ভব হয়েছে। আর যেসব রোগীকে দেরিতে দেয়া হয়েছে তাদের শতকরা ৪৯ ভাগ হাসপাতাল ত্যাগ করেছে।’

অবশ্য এ ঘোষণার আগে বিজ্ঞান সাময়িকী ল্যান্সেট চীনে রেমডিসেভিরের একটি পরীক্ষার ফল উদ্ধৃত করে জানায় যে এতে কাজ হয়নি – তবে এ জরিপ সম্পূর্ণ হয়নি কারণ তখন যথেষ্ট রোগী ছিল না।

জেমস গ্যালাহার বলছেন, ‘নিশ্চিতভাবে জানতে হলে আমাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে পূর্ণাঙ্গ উপাত্ত পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।’

 
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ