পটুয়াখালীর ৮টি গ্রামের সহস্রাধিক বাড়িঘড় প্লাবিত

  • পটুয়াখালী প্রতিনিধি
  • ২০২০-০৫-২০ ১৬:৫৬:৩৭
image

ঘূর্ণিঝড় ‘আমফানের’ প্রভাবে বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী রাঙ্গাবালী উপজেলার বিচ্ছীন্ন কমপক্ষে ৮ টি গ্রামের সহস্রাধিক ঘর-বাড়ি ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে।

রাঙ্গাবালী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মাশফাকুর রহমান জানান, প্লাবিত গ্রাম গুলো হচ্ছে- রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়নের চরকাশেম, মাঝের চর, চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডা, চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের বিবির হাওলা, গরুভাঙ্গা, মধ্য চালিতাবুনিয়া, উত্তর চালিতাবুনিয়া ও লতার চর। এর মধ্যে চরআন্ডা গ্রামের ২ কিলোমিটার ভেড়ীবাধ পুরো ভেংগে প্লাবিত হয়ে গেছে ।পানিবন্দী ঐ এলাকার প্রায় ১০ হাজার মানুষকে ইতেমধ্যে নিকটস্থ সাইক্লোন সেল্টারে নিয়ে আসা হয়েছে। এছাড়াও বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী বিচ্ছীন্ন চরকাশেমের ৫৬ টি পরিবারকে উদ্ধার করে নিয়ে আসার জন্য লোক পাঠানো হয়েছে।তিনি আরোও জানান,জোয়ারের পানি স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫-৭ ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের মধ্যে আতকং সৃষ্টি হয়েছে,ইতোমধ্যে প্রায় ৪০ হাজার লোককে নিরাপদ আশ্রয় নিয়ে আসা হয়েছে। 

কলাপাড়া উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা আবু আবু হাসনাত মো: শহীদুল হক জানান,পায়রা বন্দর সংলগ্ন জেলার কলাপাড়া উপজেলার মুন্সীপাড়া থেকে পশুরবাড়ীয়া পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার বেড়ীবাধহীন ওই এলাকায় প্রায় ৭-৮ হাজার লোকের বসবাস,তারা সারাবছরই বিশেষ করে দূর্যোগ এলে চরম ঝুকির মধ্যে চলে যায় ঐ লোকজন। ঐ এলাকায় ৫ টি সাইক্লোন সেল্টার রয়েছে ,আমরা তাদেরকে নিরাপাদ আশ্রয় নিয়ে আসতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি ইতোমধ্যে পুলিশ সহ এসিল্যান্ড ওখানে গিয়েছেন লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয় নিয়ে আসতে।তিনি জানান,কলাপাড়া উপজেলায় ইতোমধ্যে ১৯৭ টি আশ্রয় কেন্দ্র ৮২ হাজার লোক আশ্রয় নিয়েছেন।

এ ছাড়াও আজ সকাল আানুমানিক ৯ টার দিকে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের সিপিপি টিম লিডার সৈয়দ মো: শাহ্আলম (৬০) তার দুই সহযোগী নিয়ে স্থানীয় হাফেজ প্যাদার খালের অপর পাড়ের লোকজনকে সড়িয় আনতে প্রচারনা কাজে খাল পাড় হয়ে যাওয়ার সময় প্রচন্ড বাতাস ওপানির চাপে নৌকাটি উল্টে যায়। এ সময় তার সহযোগী ছেলে ও চাচাতো ভাই সাতড়িয়ে তীরে উঠতে পাড়লেও শাহআলমকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি ।

দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, তানিয়া ফেরদৌসি জানান, দশমিনার ঝুকিপূর্ন চর বোরহান,চরহাদী,পাতার চর থেকে লোকজনকে ইতোমধ্যে আশ্রয় কেন্দ্র নিয়ে আসা হয়েছে, এছাড়া চরবাশবাড়িয়ায়র ১৪ টি ঝুকিপূর্ন পরিবারকে দশমিনা বীজ বর্ধন খামারে আশ্রয়ের ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। তিনি জানান, দশমিনার ১৩০ টি আশ্রয় কেন্দ্র ইতোমধ্যে ৩৬ হাজার লোক আশ্রয় গ্রহন করেছে।

মির্জাগনজ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সোহরাব হোসেন ক্রাইম প্রতিদিনকে জানান, বেড়ীবাধবিহীন চরম ঝুকিপূর্ন চরখালী সহ ভয়াং ,কাকড়া বুনিয়া ভিখাখালী থেকে লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসা হয়েছে উপজেলার ৫৭ টি আশ্রয় কেন্দ্র ইতোমধ্যে ৩৩ হাজার লোক আশ্রয় গ্রহন করেছে। 

বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, ঝুকিপূর্ন চর ওয়াডেল,চর ব্যারেট, চরবাসুদেব পাশা ,চর কারখানা থেকে রোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসা হয়েছে।

এদিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা ত্রান ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মাহাবুবুর রহমান ক্রাইম প্রতিদিনকে জানান, বেড়িবাঁধ সংলগ্ন দুর্গত এলাকার মানুষসহ সকলের জন্য জেলায় সাইক্লোন শেল্টারসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে মোট ৭৫০টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হলেও তা এখন বেড়ে ৯০৭ টি হয়েছে এবং ইতোমধ্যে ৩ লাখ ৭৬ হাজার জনসাধারন আশ্রয় গ্রহন করেছে।

শেয়ার করে ক্রাইম প্রতিদিন এর সঙ্গে থাকুন

নিউজ সম্পর্কে মতামত লিখুন

 
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ