করোনাভাইরাসে বড় ধাক্কা আওয়ামী লীগে!

  • ক্রাইম প্রতিদিন ডেস্ক
  • ২০২০-০৬-২০ ০০:৩৪:২৬
image

মহামারী করোনাভাইরাসে বড় ধাক্কা খেল আওয়ামী লীগ। কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে ক্ষমতাসীন দলটির তিন প্রভাবশালী নেতা মোহাম্মদ নাসিম, শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ইন্তেকাল করেছেন। নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছেন মন্ত্রী, এমপি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দলীয় নেতারা। দলের মধ্যে অস্বাভাবিক এক শূণ্যতা বিরাজ করছে। তিন প্রভাবশালী নেতার মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হারানোর বেদনা মেনে খুবই কষ্টকর মন্তব্য করেছেন। এদিকে করোনায় আক্রান্ত তিন মন্ত্রিপরিষদ সদস্যের শারীরিক অবস্থা ভাল রয়েছে।

এ পর্যন্ত ৩ জন মন্ত্রীসহ ১৪ জন সংসদ সদস্য করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে রয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম মোজাম্মেল হক, বাণিজ্যমন্ত্রী রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য টিপু মুনশি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং, সাবেক এলজিইডি মন্ত্রী ইঞ্জি. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সাবেক চিফ হুইপ ও মৌলভীবাজার-৪ আসনের এমপি উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ, নওগাঁ-২ আসনের শহীদুজ্জামান সরকার, চট্টগ্রাম-৬ আসনের এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, যশোর-৪ আসনের রণজিৎ কুমার রায়, জামালপুর-২ আসনের ফরিদুল হক খান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের এবাদুল করিম, চট্টগ্রাম-৮ আসনের মোসলেম উদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, সিলেট-২ আসনের মোকাব্বির খান ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনের মোহাম্মদ নাসিম (মারা গেছেন)। এর মধ্যে গতকাল আক্রান্ত হয়েছেন সাবেক এলজিইডি মন্ত্রী ইঞ্জি. খন্দকার মোশাররফ হোসেন মোকাব্বির খান ছাড়া আক্রান্ত সবাই আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি। আর শহীদুজ্জামান সরকার করোনা নেগেটিভ এসেছে। অন্য এমপিরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং শারীরিক অবস্থা ভাল বলে জানিয়েছেন তাদের ব্যক্তিগত সহকারীরা। এছাড়া

এছাড়া করোনায় মারা গেছেন, টেকনোক্র্যাট কোটার প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, সিলেট সিটির সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান, সাবেক এমপি ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হাজী মকবুল হোসেন, সাবেক এমপি কামরুন্নাহার পুতুল। এছাড়া নতুন ভাবে সারা দেশেই আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতাকর্মী করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন। গতকাল স্বেচ্চাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এদিকে সারা দেশে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী করোনায় এবং করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাচ্ছেন।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৩ জুন সকাল ১১টা ১০ মিনিটে ইন্তেকাল করেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য, ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম। এদিনই রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে করোনার দ্বিতীয় আঘাতে ইন্তেকাল করেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। একদিন না পেরুতেই রোববার দিবাগত রাত আড়াইটায় করোনায় ইন্তেকাল করেন সিলেট সিটির সাবেক মেয়র, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সদস্য বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। এক শোক না কাটতেই যেন আরেক শোক এসে দরজায় কড়া নাড়ছে আওয়ামী লীগে।

তিনজনই ছিলেন সারাদেশে সুপরিচিত জনপ্রিয় রাজনীতিক এবং দলের হেভিওয়েট নেতা। মাটি ও মানুষের কাছের নেতা। মোহাম্মদ নাসিম জাতীয় নেতা ক্যাপ্টেন মনসুর আলীর ছেলে, আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আন্দোলন সংগ্রামে এক অকুতভয় বীর। শেখ আব্দুল্লাহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী আসনের প্রতিনিধিত্ব করতেন। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হয়ে দেশের কওমী মাদরাসাগুলোকে সরকারি নিয়মের মধ্যে এনে স্বীকৃতি দেয়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এবং তাবলীগ জামায়াতের দুই পক্ষের সংঘর্ষ-বিরোধ মিটিয়ে সহঅবস্থান নিশ্চিত করেছেন। আর বদর উদ্দিন কামরান এমপি বা মন্ত্রী ছিলেন না কখনো তবু জাতীয় নেতায় পরিণত হয়েছিলেন নিজ কর্মের মাধ্যমে। এই নেতাদের মৃত্যুতে আওয়ামী লীগের শূণ্যতা বিরাজ করছে।

এদিকে করোনায় আক্রান্ত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিংয়ের শারীরিক অবস্থা এখন ভালো বলে জানিয়েছেন তাদের ব্যক্তিগত সহকারীরা। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রীর স্ত্রী স্ত্রী লায়লা আরজুমান্দ বানুও ভালো আছেন। এছাড়া শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরীর মা হাসিনা মহিউদ্দিন এবং ভাই করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন। নওগাঁ-২ এর এমপি শহীদুজ্জমান সরকার এবং আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল এখন করোনা নেগেটিভ।

করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিষয়ক সাবেক মন্ত্রী এবং ফরিদপুর-৩ আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন। গতকাল তিনি নিজেই গণমাধ্যমে এ তথ্য জানিয়ে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

এদিকে করোনার মহামারিতে মন্ত্রী, এমপি, দলের হেভিওয়েট থেকে সাধারণ নেতাকর্মীরা এখন খুবই সাবধানতা অবলম্বন করছেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা কাজ করছেন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে। করোনার শুরু থেকে নিজের সরকারি বাসভবনে অবস্থান করছেন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বয়স্ক ও হেভিওয়টে নেতা তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কর্ণেল (অব.) ফারুক খানসহ অনেক নেতা নিজ নিজ বাসা থেকে যাবতীয় কাজ করছেন। মন্ত্রীরাও না পারতে বাসা থেকে বের হচ্ছেন না। করোনার শুরু থেকে অনেক এমপি গা’ঢাকা দিয়েছিলেন তা আরো বেড়েছে। মন্ত্রণালয় এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অফিসে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রয়োজনীয় কাজ করা হচ্ছে। সেখানে দলের বেশ কিছু নেতারা নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।

করোনায় দলের নেতাকর্মীদের আক্রান্ত হওয়া ও মারা যাওয়ার বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, মানুষের জন্য কাজ করতে যেয়েই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সারা দেশে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছেন এবং মারা যাচ্ছেন। এ সময় বিএনপি নেতারা মাঠে না থাকায় তাদের আক্রান্ত হবার খবরও পাওয়া যাচ্ছে না। যদিও আমরা আশা করি না বিএনপির কেউ আক্রান্ত হোক।

করোনায় মারা গেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা হলেন, ১৭ মার্চ যুক্তরাজ্যে সফররত মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কোষাধ্যক্ষ মাহমুদুর রহমান, ১৭ মে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ৫০ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি সায়েম খন্দকার, ২৩ মে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের ২৪ নং ওয়ার্ডের সভাপতি রুহুল কুদ্দুস তপন, ২৭ মে চট্টগ্রাম নগরে আওয়ামী লীগ নেতা মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী, ২৮ মে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগ নেতা গিয়াস উদ্দিন, ১ জুন সুনামগঞ্জের ছাতকে আব্দুল হক, ২ জুন ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ রওশন আলী, ৪ জুন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি আজিজুর রহমান বাচ্চু, ৫ জুন কুমিল্লা ১৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক আবুল বাশার, ৮ জুন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের ২৮ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি বেলায়েত হোসেন খান, ১৪ জুন সীতাকুন্ড পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি শাহ আলম, ১৫ জুন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও কুমিল্লা অজিতগুহ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মুক্তিযোদ্ধা আলকাসুর রহমান।

করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন, ৯ এপ্রিল বরগুনার আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম দেলোয়ার হোসেন, ১৩ মে চট্টগ্রাম নগরের ৩৭ নম্বর উত্তর মধ্যম হালিশহর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. হোসেন মুরাদ, ১৯ মে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি শাহাদাত হোসেন মানিক, ১৫ জুন নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আফছার রতন, ১৫ জুন হবিগঞ্জ জেলার শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শহীদ উদ্দিন জিসনু, ১৭ জুন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের ৩নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ আহমদ মুরন। ২ মে করোনাজয়ের পরও শ্বাসকষ্টে মৃত্যু হয় কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার ১০নং ওয়ার্ড পৌর কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি আওলাদ হোসেন সওদাগরের।

 
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ