চট্টগ্রামে আকাশ থেকে পড়ছে করোনার ঔষধ?

  • ক্রাইম প্রতিদিন ডেস্ক
  • ২০২০-০৪-১৫ ২৩:২৬:১৯
image

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে কুড়িয়ে পাওয়া এক প্রকার গাছের ফল (ক্ষুদ্র মার্বেল আকৃতির) ভিজিয়ে পানি পান করলে করোনামুক্ত হওয়া যাবে বলে হঠাৎ গুজব ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন এলাকায়। ফলে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) থেকে এ ফলটি খুঁজতে রাস্তায় নেমে পড়েন অনেকে।

তাদের মধ্যে বেশিরভাগই নিজ নিজ বাড়ির সামনের রাস্তা বা উঠোনে এটি কুড়িয়ে পেয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বললেন, এসব গুজব ছাড়া কিছুই না। এই ফলের পানি খেয়ে উল্টো অসুস্থও হয়ে যেতে পারেন কেউ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর থেকে সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন এলাকায় হঠাৎ গুজব ছড়িয়ে পড়ে এক ধরনের গাছের ফল (বিচি) পাওয়া যাচ্ছে যা খেলেই করোনামুক্ত হওয়া যাবে!

এই খবরের পর বাড়বকুণ্ড বড়ুয়াপাড়া, সৈয়দপুর, বারৈয়াঢালা, পৌর সদর থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকায় এ গুজব ডালপালা ছড়াতে থাকে এবং অনেকেই বাড়ির সামনে ও আশপাশে খুঁজে ওই ফলটি বের করেন।

বাড়বকুণ্ড বড়ুয়াপাড়ার বাসিন্দা স্থানীয় সাংবাদিক নির্দেশ বড়ুয়া জানান, দুপুর ১টার দিকে তার গ্রামের কিছু নারী এই ফলটি সংগ্রহ করতে থাকেন।

এটি নাকি বাড়ির আশপাশেই কুড়িয়ে পেয়েছেন তারা। এই ফল খেলে করোনামুক্ত হওয়া যাবে- এটিই তাদের বিশ্বাস।

সৈয়দপুর ইউনিয়নের পশ্চিম সৈয়দপুর গ্রামের বাসিন্দা এস এম ইকবাল হোসেন বলেন, আমার এলাকার রণি নামক এক যুবক এ ফলটি নিয়ে আসে।

পরে শুনতে পাই সবাই এ ফলটি কুড়িয়ে সংগ্রহ করছেন। অনেকটা অশ্বথ গাছের ফলের মতো এই ফলটি কুড়ানোর হিড়িক লেগে যায় রীতিমত। এটি ডুবিয়ে পানি খেলেই নাকি করোনামুক্ত হওয়া যাবে!

সীতাকুণ্ড পৌর সদরের মহাদেবপুর গ্রামের বাসিন্দা বিপ্লব নন্দী বলেন, সন্ধ্যার পর হঠাৎ এরকম করোনামুক্তির মহৌষধের কথা বিভিন্নজনের কাছে শুনলাম। কেউ নাকি এটি নিজের বাড়ির উঠোনে পাচ্ছে কেউ নাকি এটি নিজের ঘরের সামনের রাস্তায় কুড়িয়ে পাচ্ছেন।

আমার আশপাশের অনেক ঘরের মানুষই এটি পেয়েছে জেনে কৌতুহলবশত আমার স্ত্রীও রাস্তায় বের হয়ে ঘরের সামনে একটি ফল খুঁজে পান।

এই ফলটি ভিজিয়ে খেলে করোনামুক্ত হওয়া যাবে বলে শুনেছেন তিনি। তবে এর সত্যতা কতটুকু তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

এদিকে সূত্রগুলো জানিয়েছে এই ফল বা বিচিটি খেলে করোনামুক্ত হওয়া যাবে- এমন খবর সীতাকুণ্ড ছাড়িয়ে চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের আরো বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। যদি এটি নিছক গুজব বলেই মন্তব্য করেছেন সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নুরউদ্দিন রাশেদ।

 
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ